ডুরান্ডের হিসাব মেটানোর পালা, বারাসতে আজ ডার্বি

কলকাতা লিগের ডার্বি মানেই আলাদা আবেগ, উত্তেজনা এবং মর্যাদার লড়াই। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আরও একাধিক কারণ। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের পর ফের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে চলেছে মোহনবাগান। আবার আট বছর পর বারাসত স্টেডিয়ামে ফিরছে কলকাতার ফুটবল। ফলে সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বরের ডার্বি ঘিরে উত্তাপ ম্যাচ শুরুর আগেই চরমে।
এই প্রথম কলকাতা লিগের ডার্বিতে বারাসত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। তাই দুই দলের সমর্থকদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব অন্যরকম। একদিকে রয়েছে তিন পয়েন্টের লক্ষ্য, অন্যদিকে সাম্প্রতিক অতীতের হিসাব মেটানোর তাগিদ। বিশেষ করে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে পরাজয়ের পর মোহনবাগান যে এই ম্যাচকে বদলার সুযোগ হিসেবে দেখছে, তা তাদের প্রস্তুতিতেই স্পষ্ট।
সবুজ-মেরুন শিবির ডার্বির জন্য যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করছে। সিনিয়র দলের কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস নিজে দলের রণকৌশল সাজাচ্ছেন। মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসো ও শুভাশিস বসুর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ডার্বির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আপুইয়া এবং ছাংতেকেও কলকাতা লিগের জন্য রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। ফলে সোমবার সিনিয়র দলের একাধিক পরিচিত মুখকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইস্টবেঙ্গল শিবিরেও ডার্বির গুরুত্ব কম নয়। ঘরোয়া লিগে দলের অনুশীলনে নিয়মিত দেখা না গেলেও ম্যাচের আগে কোচ বিনো জর্জ নিজে অনুশীলনে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর এই উপস্থিতি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লাল-হলুদ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না।
তবে ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। বরিস সিং, নরেন্দর গোহলাথ, আসিফ কে এবং সৌভিক চক্রবর্তীর মতো ফুটবলারদের রেজিস্ট্রেশন করানোর পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের নথিভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ক্লাবের কর্তা দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, এখনও সিনিয়র দলের কোনও ফুটবলারকে কলকাতা লিগের জন্য রেজিস্ট্রেশন করানো হয়নি। ফলে ম্যাচের আগে দল গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে বারাসত স্টেডিয়ামকে ডার্বির উপযুক্ত করে তুলতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামকে ম্যাচের উপযোগী করতে বারাসতের বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর চেষ্টা করেও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বারাসতে ডার্বি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবার প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় স্তরের সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। বারাসতের পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, ডার্বি নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনে বাইরের জেলা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী আনা হবে। পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তার চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
বারাসতের জন্যও ম্যাচটি ঐতিহাসিক। আট বছর পর এই স্টেডিয়ামে ফিরছে ফুটবল। তার মধ্যেই প্রথমবার কলকাতা লিগের ডার্বি আয়োজন করতে চলেছে মাঠটি। পাশাপাশি ১৬ বছর পর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের ফ্লাডলাইটেও ফুটবলের আসর বসছে। তাই সোমবারের ম্যাচ শুধুমাত্র মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের লড়াই নয়, বারাসতের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি বড় প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine + eleven =