এটিএম জালিয়াতি কাণ্ডে কলকাতা থেকে গ্রেফতার ৩ দুষ্কৃতী, উদ্ধার ৬২টি কার্ড ও ৮টি পিওএস মেশিন

কলকাতা : এটিএম-এর মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কলকাতা থেকে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৬২টি এটিএম কার্ড, ১০টি সিম কার্ড, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং আর্থিক লেনদেনে ব্যবহৃত ৮টি পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত তিনজনেই বিহারের জাহানাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, ক্যানারা ব্যাঙ্ক এবং বন্ধন ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। ধৃতদের নাম ভারত বিশাল, ইন্দ্রজিৎ কুমার এবং বিরাজ কুমার।

দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার সাইবার থানায় গত ৩ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে শুক্রবার দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল কলকাতায় পৌঁছায়। এই প্রতিনিধিদলে সাব-ইন্সপেক্টর নীরজ কাকরলিয়া ছাড়াও থানার তিনজন হেড কনস্টেবল ছিলেন।

দিল্লি পুলিশ কলকাতা পুলিশের পূর্ব যাদবপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার পর একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযুক্তদের কাছে এত বিপুল সংখ্যক এটিএম কার্ড এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কোথা থেকে এল, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এই কার্ডগুলি কোন কোন জায়গায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তাও তদন্তে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটিএম থেকে টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং এদের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে যে, এরা কেবল নিজেরাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, নাকি এর পেছনে কোনো বড় আন্তঃরাজ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে। উদ্ধার হওয়া কার্ড এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বহু মানুষের সাথে আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ।

ধৃত তিন অভিযুক্তকে শনিবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। শুনানি শেষে আলিপুর আদালত দিল্লি পুলিশকে ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছে। আদালতের অনুমতির পর দিল্লি পুলিশ তাদের নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। ঘটনার পরবর্তী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 2 =