মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাতেও একশো দিনের বকেয়া মেলা নিয়ে আশঙ্কায় শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাঁকুড়া: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেন্দ্র একশো দিনের কাজের প্রকল্পে বকেয়া টাকা না মেটালে রাজ্য শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পরেও প্রায় তিন বছর ধরে বকেয়া পড়ে থাকা হাজার হাজার টাকা মজুরি মিলবে কিনা, সেই আশা আশঙ্কার দোলাচলে একশো দিনের প্রকল্পের শ্রমিকরা।

গত প্রায় দু’ দশক ধরে বাঁকুড়ার মতো খরাপ্রবণ জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির বড় সাপ্লাই চেইন ছিল একশো দিনের কাজের প্রকল্প। বছরে একশো দিন না হোক প্রতি বছর শ্রমিকরা কাজ পেতেন গড়ে পঞ্চাশ থেকে সত্তর দিন হারে। শুখা মরসুমে সেই কাজের মজুরিই ছিল বহু দরিদ্র পরিবারের একমাত্র সংস্থান। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনে গত প্রায় তিন বছর এ রাজ্যে বন্ধ একশো দিনের প্রকল্পের কাজ।
এর সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ছে এ রাজ্যের শুখা জেলাগুলিতে। শুধু কাজ বন্ধ রয়েছে তাই নয়, এ রাজ্যে প্রকল্পে কাজ করেও টাকা পাননি অনেকে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের বকেয়া পড়ে রয়েছে হাজার হাজার টাকা। আর এই ঘটনার জন্য কখনও কেন্দ্র রাজ্য সরকারের দুর্নীতিকে দুষেছে, তো কখনও রাজ্য দুষেছে কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণকে। এই পরিস্থিতিতে মাস কয়েক আগে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন বকেয়া থাকা টাকা তিনি মেটাবেন। জেলায় জেলায় দু’-একজন করে শ্রমিকের হাতে ঘটা করে বকেয়া টাকা মিটিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই সেই সৌভাগ্য হয়নি বলে দাবি।
রবিবার কলকাতার ধর্না মঞ্চ থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেন্দ্র বকেয়া টাকা না দিলে রাজ্য তার কোষাগার থেকে শ্রমিকদের এই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেবে। বারংবার প্রতিশ্রুতি আর ঘোষণা ব্যর্থ হওয়ার পর আর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাতে শ্রমিকরা ভরসা রাখতে পারছেন না বলে দাবি। তাঁদের দাবি, অন্যান্যবারের মতো এবারও প্রতিশ্রুতিভঙ্গ হবে না কে বলতে পারে। শেষ পর্যন্ত বকেয়া মজুরি যদি রাজ্য সরকার দিয়েও দেয়, তা হলেও পরবর্তী কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা কোথায়? বিজেপি কর্মীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি। একশো দিনের প্রকল্পের বকেয়া এবারও পাবেন না শ্রমিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *