মেদিনীপুর : পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কালজয়ী সাহিত্যকীর্তি, তাঁর জীবনের নানা ঐতিহাসিক নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলীর স্থায়ী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘বিদ্যাসাগর সংগ্রহালয়’ (বিদ্যাসাগর মিউজিয়াম)। শুক্রবার রাতে বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ফিতা কেটে এই নতুন সংগ্রহালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন।
সংগ্রহালয় উদ্বোধনের পাশাপাশি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এদিন ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রিডার্স পার্ক’-এরও আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। একই সাথে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘বিদ্যাসাগর স্মারক বক্তৃতা’ এবং সম্মানজনক ‘বিদ্যাসাগর পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। শুভ এই উপলক্ষ্যে ‘বিদ্যাসাগর রচনাবলী’-র চতুর্থ খণ্ড এবং তাঁর বিখ্যাত ‘শকুন্তলা’ বইটির চারটি পৃথক ভাষায় অনূদিত বিশেষ সংস্করণের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগে বিদ্যাসাগরের স্বহস্তে লিখিত বই, তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিরল পুস্তক, বংশলতিকা এবং তাঁর ঐতিহাসিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলনের দলিলসমূহকে একই ছাদের তলায় সংরক্ষিত করা হয়েছে। মোট তিনটি সুসজ্জিত কক্ষ নিয়ে গড়ে তোলা এই মিউজিয়ামে বিদ্যাসাগর সম্পর্কিত নানা দুর্লভ তথ্য, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, গোপন চিঠিপত্র ও পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। এমনকি বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত চটিজুতোও অত্যন্ত সযত্নে এই সংগ্রহালয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী রাজ্যে শিক্ষার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিদ্যাসাগরের মহান আদর্শ ও সংস্কারবাদী চেতনাকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বাধিক জোর দেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কুমার কর সহ অন্যান্য আমন্ত্রিত বক্তারা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রজ্ঞাপূর্ণ দর্শন ও মানবতাবাদী সামাজিক অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। শনিবার রাজ্যজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মজয়ন্তী।

