নয়াদিল্লি: অবিলম্বে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের তরফে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং আরও দুই বিচারপতি থাকবেন এই কমিটিতে।
তাঁরাই রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয় স্থির করবেন। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, ডিএ সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ সর্বোচ্চ আদালতের।
পুরনো রায়ই বৃহস্পতিবার বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্ট জানায়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রোপা রুল নিয়ে অনুযায়ী ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার।
ডিএ মামলায় সুপ্রিম রায়কে স্বাগত শুভেন্দুর, বিঁধলেন রাজ্য সরকারকে
ডিএ মামলায় সুপ্রিম রায়কে স্বাগত জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিঁধলেন রাজ্য সরকারকেও। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী এক্স মাধ্যমে জানান, ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করল সুপ্রিম কোর্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে বারংবার বলে এসেছেন যে, “ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়”। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিলো, ডিএ হলো কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার, কোনও অনুদান নয়।
শুভেন্দু আরও জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বহু বছরের সংগ্রামের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মহামান্য আদালতের নির্দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার অনুযায়ি মহার্ঘ ভাতা পেতে চলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসংবেদনশীল সরকার দীর্ঘ দিন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের তাঁদের প্রাপ্য ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত করেছেন। ট্রাইবুনাল থেকে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট, একের পর এক আইনি লড়াই জেতার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে দেশের তাবড় আইনজীবীদের দাঁড় করিয়েছেন শুধুমাত্র প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কর্মচারীরা আন্দোলন করলে পুলিশের লাঠির আঘাত ধেয়ে এসেছে, তবুও ওনারা ধৈর্য ধরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন ও দেশের আইনি ব্যবস্থার ওপর ভরসা করে আইনি পথে লড়াই করেছেন। এই জয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সম্মিলিত লড়াইয়ের জয়, ন্যায্য অধিকারের জন্য আপোষহীন এই লড়াইকে আমি কুর্ণিশ জানাই। রাষ্ট্রবাদী মনোভাবাপন্ন সহ সকল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

