ব্রাজিল ম্যাচ এখন অতীত, উরুগুয়েই এখন পাখির চোখ খালিদ জামিলের

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ০-৪ গোলে হারলেও ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সকে একেবারে ব্যর্থ বলা যাচ্ছে না। ম্যাচের বেশ কিছু সময় দারুণ লড়াই করেছে সুনীল ছেত্রীর উত্তরসূরিরা। প্রতিপক্ষের তারকাখচিত দলকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলতেও দেখা গিয়েছে ভারতকে। সেই লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন ফুটবলমহলের অনেকেই। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আন্সেলোত্তিও ভারতীয় দলের মানসিকতা ও প্রতিরোধের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সেই ম্যাচ এখন অতীত। সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।
মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নামবে ভারত। হাতে প্রস্তুতির জন্য সময় কার্যত নেই বললেই চলে। তার মধ্যেই আগের ম্যাচের ভুল শুধরে নতুন পরিকল্পনায় নামতে চাইছেন কোচ খালিদ জামিল। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্রাজিলের ফলাফল নিয়ে বসে থাকার কোনও সুযোগ নেই। এখন দলের সমস্ত মনোযোগ উরুগুয়ে ম্যাচকে ঘিরেই।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হারের পর দলের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খালিদ বলেন, আগের ম্যাচের ফল নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। তাই দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে সেরাটা দেওয়ার দিকেই নজর দিতে হবে। তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচ থেকেই শিক্ষা নিয়ে পরের পরীক্ষায় কাজে লাগানোই জাতীয় দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভারতীয় কোচের চোখে পড়েছে একটি বড় সমস্যা মনঃসংযোগের ঘাটতি। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে। তাই ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই মাত্রার সতর্কতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু সতর্ক থাকলেই হবে না, নিজেদের ক্ষমতার উপর বিশ্বাসও রাখতে হবে বলে মনে করেন খালিদ।
পরপর দু’টি ম্যাচের মাঝে মাত্র দু’দিনের ব্যবধান। ফলে ফুটবলারদের শারীরিক ক্লান্তি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে খালিদ জামিল তাতে খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর মতে, আধুনিক ফুটবলাররা নিজেদের শরীর এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানেও ম্যাচ খেলার জন্য তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে পারেন। দলের ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা ও পরিণত মানসিকতার উপরও আস্থা রাখছেন তিনি।
উরুগুয়ের শক্তি নিয়েও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ভারতীয় শিবির। আক্রমণভাগে যেমন প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, তেমনই রক্ষণভাগও যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে সামান্য ভুলও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। খালিদের পরিকল্পনায় তাই শুরুটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিকে গোল হজম না করে ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাইছে ভারত।
প্রতিপক্ষের কোচ দিয়েগো ফোরলানকেও যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখছেন খালিদ। উরুগুয়ের কোচ ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে ধারণা রাখেন বলেই আরও বেশি সতর্ক থাকতে চাইছেন তিনি। খালিদের মতে, উরুগুয়ে ভালো দল এবং তাদের দলে মানসম্পন্ন ফুটবলারের অভাব নেই। ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিটি দিক মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর মতে, সব সময় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেই হবে না। প্রয়োজন হলে রক্ষণ সামলাতে হবে, আবার সুযোগ তৈরি হলে দ্রুত আক্রমণেও যেতে হবে। অর্থাৎ ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে ভারতের মূল কৌশল।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের আক্রমণাত্মক মানসিকতার কৃতিত্ব অবশ্য পুরোপুরি ফুটবলারদের দিয়েছেন খালিদ। তাঁর বক্তব্য, কোচের কাজ মূলত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দেওয়া। মাঠে শেষ সিদ্ধান্ত নিতে হয় ফুটবলারদেরই। দলের হাতে একাধিক আক্রমণাত্মক ফুটবলার থাকায় সেই ধরনের ফুটবল খেলাও সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে উরুগুয়ে ম্যাচকে শুধু তাৎক্ষণিক ফলাফলের জায়গা থেকে দেখছেন না খালিদ। তাঁর লক্ষ্য আরও বড় ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভারতীয় দল তৈরি করা। ভালো ফল যেমন ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনই নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে কার্যকর দল গড়ে তোলাও জরুরি। তাই উরুগুয়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের ম্যাচে ফলের পাশাপাশি ভবিষ্যতের ভারত গড়ার পরীক্ষাও চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 2 =