হরমুজে উত্তেজনা চরমে, মার্কিন নৌ অবরোধের প্রস্তুতির দাবি; ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব ভারতের

তেহরান/ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি  : হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানে সামরিক অভিযানের তৃতীয় পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজে নৌ অবরোধ কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, বন্দার আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় ইরানে সামরিক অভিযান আবার শুরু হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে , মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মঙ্গলবার মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল চারটা থেকে ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামে দুটি ট্যাঙ্কারে হামলা হয়। এতে এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক। হামলায় দুটি জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় নয়াদিল্লিতে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত (ডেপুটি চিফ অব মিশন)-কে তলব করেছে ভারত সরকার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত সরকার ও নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তারা বলেছে, এই হামলা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের পরিপন্থী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে অবিলম্বে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং নির্দেশ না মানা জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যদিও ইরান এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের লিমাহ উপকূলের দক্ষিণ-পূর্বে একটি ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

এদিকে, বাহরিন দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডন, বাহরিন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ৬০ দিনের ছাড় প্রত্যাহার হলেও ইরানের তেল রফতানি স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে, ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার সংস্থাগুলির দাবি, সম্ভাব্য মার্কিন নৌ অবরোধের ফলে আগামী দিনে ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রফতানি ব্যাহত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে দ্রুত বদলে যাওয়া এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 9 =