তারাতলা দুর্ঘটনা : প্ল্যান ও নজরদারিতে গাফিলতি থাকলে রেহাই নয়, কড়া বার্তা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

কলকাতা : কলকাতার তারাতলা ট্রান্সপোর্ট এলাকার কাছে ঘটে যাওয়া গুদাম দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি নির্মাণ কাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী না হয়ে থাকে এবং নজরদারির ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি করা হয়, তবে দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এই ঘটনায় কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) কোনও স্তরে কোনও ভূমিকা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা সম্পূর্ণ তদন্তের বিষয়।

তিনি বলেন, যদি কোনও নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার নিয়মিত তদারকি করাও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির দায়িত্ব ছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক মাসের জন্য সব ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এই নির্দেশ সকলকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং নির্মাণ সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সচেতন করা হবে।

অগ্নিমিত্রা পাল উল্লেখ করেন যে, নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার কারণে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে এই ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। নির্মাণ কাজগুলিতে স্যাংশন প্ল্যানের সঠিক রূপায়ণ এবং নজরদারির বিষয়টিকে নিয়ে একটি ব্যাপক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

দুর্ঘটনার কারিগরি বা প্রযুক্তিগত দিকটি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লোহার পিলারগুলিকে পর্যাপ্ত ওয়েল্ডিং না করে কেবল নাট-বল্টু দিয়ে জোড়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে সিমেন্টের কাঠামোর ভার বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো পরিকাঠামোটি ভেঙে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত ও চূড়ান্ত কারণ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

তিনি জানান, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রকম দাবি সামনে আসছে।

মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য সরকার আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত নতুন নির্মাণ কাজের অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করা হবে এবং বিশেষ তদন্ত অভিযান চালানো হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তদন্তে ইঞ্জিনিয়ার, আধিকারিক বা অন্য যে কোনও পক্ষই দোষী সাব্যস্ত হোক না কেন — তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =