কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে পেল সুইজারল্যান্ড

এই শতাব্দীতে এসে বিশ্বকাপে তারা নিয়মিত মুখ। ২০০৬ থেকে প্রতিটি আসরেই ছিল উপস্থিতি। কিন্তু প্রতিবার দৌড় থেমে যাচ্ছিল প্রথম বা দ্বিতীয় রাউন্ডে।

অবশেষে বারবার আটকে যাওয়া সেই গেরো খুলেছে সুইজারল্যান্ড। ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইসরা। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম—অর্থাৎ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠল ইউরোপের দেশটি।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রোববার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।

ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেওয়া টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার হয়ে মিস করেন দাভিনসন সানচেজ ও কুচো হার্নান্দেজ। এর মধ্যে হার্নান্দেজের শট রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার গ্রেগর কোবেল। সুইজারল্যান্ডের শুধু মানুয়েল আকাঞ্জি মিস করেন।

পেনাল্টি শুটে না পারলেও ১২০ মিনিটের খেলায় কলম্বিয়াই বেশি সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। ১৫টি শটের মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে, কর্নারও আদায় করেছে ৭টি। কিন্তু সুইজারল্যান্ড মাত্র ৭ শট আর ৩ কর্নার নিয়েও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নিজেদের ধরে রেখেছে।

ম্যাচে কলম্বিয়ার প্রথম বড় সুযোগ আসে ২১ মিনিটে। তখন কেভিন পুয়ের্তার দারুণ বাঁকানো শট দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন সুইজারল্যান্ড গোলকিপার কোবেল। সুইসদের ভালো সুযোগ আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। এনদোয়ের পাস থেকে জিব্রিল সো ফাঁকা অবস্থায় বল পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৬৪ মিনিটে ফাঁকা জায়গা পেয়ে বাইরে শট মারেন কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ।

এরপর দুই দলই ‘আগে রক্ষণ’ নীতি নিয়ে খেলতে শুরু করলে ম্যাচ গোলশূন্য সমতায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

আধা ঘণ্টার এই খেলায়ও ভালো সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ১১৬ মিনিটে সুইস রক্ষণভাগের ভুলে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু সময় ও জায়গা পেয়েও তিনি শট উড়িয়ে মারেন গ্যালারিতে। এরপর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে সেখানেও সব শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি লাতিন দলটি। বরং স্নায়ুর পরীক্ষায় জিতে সাত দশকের বেশি সময় পর আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করেছে সুইসরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =