নয়াদিল্লি : নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং রাজধানীতে গত ১০ অক্টোবরের গণবিক্ষোভ ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এবং দিল্লি সরকারের কাছে জবাব তলব করে নোটিস জারি করেছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের দলগুলির দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই নোটিস জারি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে দিল্লি পুলিশের বাদ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় দায়ের হওয়া পৃথক মামলাতেও দিল্লি সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে আদালত।
এ দিনই রাজধানীতে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানি শুরু করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। শুনানিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হেনস্থা ও বেআইনি আটকের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে ওঠে। বিক্ষোভ চলাকালীন মহিলা সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঞ্ছনা ও টানা-হেঁচড়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিককে সশরীরে হাজির হয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ তোলেন যে কিছু দুষ্কৃতী শিশুদের ওপর হামলা চালালেও গ্রেফতারের মাত্র এক দিনের মাথায় তারা জামিন পেয়ে যায় এবং তাদের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৮ অক্টোবরের আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে মেট্রো, রেল ও নাগরিক পরিষেবা স্তব্ধ করার অভিযোগে যে আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, নিয়ম মেনেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবরের একাংশের আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, এটি নিছক প্রক্রিয়ার অঙ্গ। জবাবে বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা কোনও নিঃশর্ত ক্ষমা এই মুহূর্তে বিবেচনা করছে না। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, ডিএমআরসি-র জমা দেওয়া বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের লিখিত জবাব তারা এখনো বিস্তারিত পড়ে দেখার সময় পায়নি।

