নয়াদিল্লি : জাতীয় গৌরবের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের শুনানি করে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় আদালত জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি ‘বন্দে মাতরম’-এর সবকটি স্তবক না গাইলেই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ করা উচিত নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্রকে দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
সংশোধিত আইনে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে বিরত করা অথবা গানটি গাওয়ার সময় কোনও সভায় বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কর্ণাটকী সঙ্গীতশিল্পী টি. এম. কৃষ্ণ এই আবেদন দায়ের করেছেন। আবেদনে জাতীয় গৌরবের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইনের ৩ নম্বর ধারার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সেই নির্দেশগুলিকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যার অধীনে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি, আনুষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সংশোধনের পর ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া থেকে কাউকে বিরত করা অথবা এমন কোনও সভায় বাধা দেওয়া, যেখানে ওই গান গাওয়া হচ্ছে, শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’টিই হতে পারে।
আবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশগুলি অনুষ্ঠানের প্রোটোকল নিয়ন্ত্রণের সীমা অতিক্রম করেছে। সংশোধনীটি কার্যত নাগরিকদের ‘বন্দে মাতরম’-এর শেষ চারটি স্তবক গাওয়ার ক্ষেত্রে অংশ নিতে বাধ্য করছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

