বারুইপুর : কামদুনি গণধর্ষণ ও খুন মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের আইনি লড়াইয়ে এবার বড়সড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার সওয়াল-জবাবের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতিতার পরিবারকে আইনজীবী দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নবনির্মিত স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে এসে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।
এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “বারাসত আদালতের রায় কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। কিন্তু এতদিন রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করছিল। তবে আমাদের এই নতুন সরকার নির্যাতিতার পরিবারকে আইনজীবী দিয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”
২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজ ছাত্রীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়, যা সমগ্র রাজ্য জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০১৬ সালে কলকাতার বিশেষ ব্যাঙ্কশাল আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করে তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।
তবে পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট এই রায় খারিজ করে দিয়ে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করে এবং বাকিদের তথ্যপ্রমাণের অভাবে খালাস বা মুক্তি দেয়। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার ও কামদুনির প্রতিবাদী মঞ্চ। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে এবার নির্যাতিতার পরিবারের পাশে আইনি ঢাল হয়ে দাঁড়াবে রাজ্য।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে এক ১২ বছর বয়সী নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
প্রশাসনের তৎপরতায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে সেই ফাঁড়ি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। শনিবার প্রথমে মৃত নাবালিকা ও পরে গণপিটুনিতে নিহত স্থানীয় যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়িটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আর এই মঞ্চ থেকেই কামদুনি মামলার পাশাপাশি বারুইপুরের ঘটনাতেও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

