শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ভারতের হাতে থাকলেও স্বস্তিতে নেই শুভমান গিলের দল। একদিকে বারবার বৃষ্টির কারণে খেলা ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার ব্যাটার সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ইনিংস ভারতের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রথম ইনিংসের ৫০৩ রানের জবাবে দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৬৫। এখনও ফলো-অন এড়াতে তাদের প্রয়োজন ৩৮ রান। ফলে চতুর্থ দিনের শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত শেষ দুই উইকেট তুলে নেওয়া।
প্রথম দিনের শেষে ভারত ৫ উইকেটে ৩০০ রান করেছিল। দ্বিতীয় দিনের বড় একটি অংশ বৃষ্টিতে নষ্ট হলেও দলের ব্যাটাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। দেবদত্ত পাড়িক্কল শতরান করে ইনিংসের ভিত মজবুত করেন। এরপর ধ্রুব জুরেলও অসাধারণ সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন। ঋষভ পন্থও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত ৫০৩ রান তুলে ভারত ইনিংস ঘোষণা করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৮ রানেই হারিয়েছিল ২ উইকেট। তৃতীয় দিনের শুরুতেই প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ কামিল মিশারার উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে আরও এগিয়ে দেন। পুরো দিনজুড়ে প্রসিদ্ধ এবং মানব সুথার ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করেন। দু’জনেই তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সারাংশ জৈন উইকেটের দেখা পাননি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন সোনাল দিনুশা। আগের টেস্টেও তিনি শতরান করেছিলেন, আর এবারও দলের বিপদের সময় অসাধারণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন। দিনের শেষে তিনি ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা। ধৈর্য ধরে বলের গতিপথ বুঝে খেলার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই আক্রমণাত্মক শট খেলেছেন। স্পিনার এবং পেসার;দুই ধরনের বোলিংই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলেছেন। তাঁর এই ইনিংস দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাঁকে কেন আরও ওপরে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হচ্ছে না।
ভারতের বোলিং কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দিনুশার বিরুদ্ধে বোলাররা বারবার শর্ট বল করার চেষ্টা করেছেন, যদিও পিচে তখন আর বাড়তি গতি বা বাউন্স ছিল না। একই সঙ্গে স্টাম্প লক্ষ্য করে একঘেয়ে লাইন ধরে বল করায় ব্যাটারকে চাপে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রথম স্পেলে কিছুটা সাফল্য এলেও দ্বিতীয় স্পেলে সেই ধার আর দেখা যায়নি। উপরন্তু, মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির কারণে খেলায় ছন্দ নষ্ট হয়েছে।
এখন ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা নতুন বল। চতুর্থ দিনের সকালে সেটি কাজে লাগিয়ে দ্রুত শেষ দুই উইকেট তুলে নিতে পারলে ফলো-অন করানোর সুযোগ তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে। কিন্তু যদি শ্রীলঙ্কা ফলো-অন এড়িয়ে যায়, তাহলে ভারতকে আবার ব্যাট করতে হতে পারে। বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ায় পরে শ্রীলঙ্কাকে দ্বিতীয়বার অলআউট করা সহজ হবে না। তাই চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাই এই টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

