মানব-জাদেজার স্পিন জালে নাজেহাল শ্রীলঙ্কা ! 

শ্রীলঙ্কার গলে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ভারত এখন চালকের আসনে থাকলেও ম্যাচের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার নাম বৃষ্টি। তিন দিনের খেলা শেষে ভারতের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রান তোলার পর শ্রীলঙ্কাকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ভারত ১৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে। তবে তৃতীয় দিনের শেষদিকে বৃষ্টির কারণে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস শুরুই করা সম্ভব হয়নি। হাতে এখনও দু’দিন সময় থাকলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভারতীয় শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, যদি বৃষ্টি নিয়মিত বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যেতে পারে। আর এই টেস্টে জয় হাতছাড়া হলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইও কঠিন হয়ে উঠবে।
ভারতের প্রথম ইনিংসে ব্যাটারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে দেবদত্ত পাড়িক্কল অসাধারণ ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ১৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে তিনি শ্রীলঙ্কার বোলারদের চাপে রাখেন। অভিজ্ঞ কেএল রাহুলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ৮২ রান করেন। অন্যদিকে তরুণ ধ্রুব জুরেল দ্রুত রান তুলে দলের স্কোরকে আরও শক্তিশালী করেন। মাত্র ৬৮ বলে ৫১ রানের ইনিংসে তিনি চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। এই তিন ব্যাটারের পারফরম্যান্সেই ভারত বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন প্রভাত জয়সূর্য। তিনি ১০৯ রান খরচ করে চারটি উইকেট নেন। যদিও ভারতীয় ব্যাটারদের দাপটের সামনে অন্য বোলাররা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে ভারতীয় দল আরও আগে ইনিংস ঘোষণা করতে পারত কি না, সেই প্রশ্নও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উঠেছে। কারণ তৃতীয় দিনের শুরুতে ভারত মাত্র দুই রান যোগ করেই অলআউট হয়ে যায়। অনেকের মতে, আরও আগে ডিক্লেয়ার করলে ভারত শ্রীলঙ্কাকে অতিরিক্ত কিছু ওভার খেলাতে পারত।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। নতুন বলে মহম্মদ সিরাজ দ্রুত প্রথম ধাক্কা দেন। এরপর স্পিনার মানব সুথার দুর্দান্ত বোলিং করে একের পর এক উইকেট তুলে নেন। তাঁর ঘূর্ণিতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে লাঞ্চের পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। সোনাল দিনুষা ও নিরোশান ডিকওয়েল্লা দুর্দান্ত লড়াই করেন। তাঁরা ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করে ভারতীয় বোলারদের হতাশ করেন এবং বড় জুটি গড়ে তোলেন।
দিনুষা অসাধারণ একটি শতরান করেন। ১৬৮ বল মোকাবিলা করে তিনি ১০০ রান পূর্ণ করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্যদিকে ডিকওয়েল্লা ৮০ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তাঁদের জুটির কারণে একসময় মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কা হয়তো আরও বড় স্কোরের দিকে এগোবে। কিন্তু টি-বিরতির পর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ডিকওয়েল্লাকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন। এরপরই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ধসে পড়ে। ২৩৬ রানে ছয় উইকেট থাকা দল শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
ভারতের বোলারদের মধ্যে মানব সুথার সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ৭৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট দখল করেন এবং মাঝের সারিকে ভেঙে দেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাও নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখেন। তিনি ৫৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। এই তিন উইকেটের সুবাদে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা ৩৫০-এ পৌঁছায়। শুধু তাই নয়, টেস্টে তাঁর চার হাজারের বেশি রানও রয়েছে। ফলে তিনি ভারতের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ৪০০০ রান ও ৩৫০ উইকেটের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে অনিল কুম্বলে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, কপিল দেব এবং হরভজন সিং এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
সব মিলিয়ে ম্যাচে ভারতের অবস্থান নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা নয়, বরং প্রকৃতি। আগামী দুই দিনে যদি বৃষ্টি বারবার খেলা বন্ধ করে দেয়, তাহলে ভারত প্রয়োজনীয় সময় নাও পেতে পারে। তাই ভারতীয় শিবিরের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত রান তুলে প্রতিপক্ষকে আবার ব্যাট করতে পাঠানো এবং আবহাওয়ার বাধা সত্ত্বেও ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়া। এখন দেখার বিষয়, বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে ভারত জয়ের হাসি হাসতে পারে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + eighteen =