আরজি করের মতো ঘটনা রুখতে আধ্যাত্মিক জাগরণ জরুরি: শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটা ধর্ষণ ও খুনের মতো নৃশংস ঘটনা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জাগরণ অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার আদ্যাপীঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে পাপবোধ এবং ভালো-মন্দের বিবেক জাগ্রত করতে সবাইকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করানো উচিত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটানো জরুরি। এর ফলে মানুষের মনে অপরাধবোধ ও পাপবোধ তৈরি হয় এবং সে অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। তাঁর মতে, আরজি করের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে গীতার শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন।

বক্তব্যে গেরুয়া রঙের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গেরুয়া কেবল কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা রাজনীতির প্রতীক নয়। এটি মূলত বীরত্ব, ত্যাগ, কর্তব্য, তপস্যা এবং সংযমের প্রতীক। বর্তমান সমাজে এই মূল্যবোধগুলিকে প্রতিষ্ঠিত করার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা কেবল সংস্কৃতি ও সাহিত্যের রাজধানী নয়, এটি আধ্যাত্মিকতারও মূল কেন্দ্র। বহু মহান সাধক ও মণীষী এই পুণ্যভূমিতে জন্মগ্রহণ করে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জাগরণের বার্তা দিয়ে গেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, শুধু কপালে চন্দনের তিলক পরলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকাঠামোগতভাবে শক্তিশালী করা এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে।

এই প্রসঙ্গে আদ্যাপীঠের উন্নয়নের বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এখানকার মহারাজ তাঁকে জানিয়েছেন যে আশ্রম পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বর্তমানে কিছু আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির সহায়তায় যা যা সম্ভব, তা করা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন— কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী হয়েই কাজ করে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + eleven =