সন্দেশখালি কাণ্ডে গ্রেপ্তার শিবু হাজরা, রুজু গণধর্ষণের মামলা

সন্দেশখালি কাণ্ডে গ্রেপ্তার শিবু হাজরা। উত্তম সর্দারের পর শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় শিবুকে। গ্রামের মহিলারা একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিল এই শিবুর বিরুদ্ধে। শনিবার বসিরহাট থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে শিবুকে। শাহজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত শিবু হাজরার বিরুদ্ধে জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ থেকে মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। এখানেই শেষ নয় গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অর্থাৎ, শেষপর্যন্ত সন্দেশখালি কাণ্ডে রুজু গণধর্ষণের মামলা। মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সিলমোহর দিয়ে অবশেষে গণধর্ষণের ধারা যুক্ত করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সন্দেশখালির ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন মহিলার আদালতের কাছে গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবার সন্দেশখালি মামলার তদন্তে যুক্ত হতে চলেছে ধর্ষণের ধারা। সন্দেশখালির ঘটনায় ২০ নম্বর মামলায় ৩৭৬ডি ও ৩০৭ গণধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার মামলার ধারা যোগ করা হল এক মহিলার গোপন জবানবন্দির ভিত্তিতে। উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে এই মামলার ধারা যোগ করা হল। পাশাপাশি বসিরহাট জেলা পুলিশ সুপার জানান, সন্দেশখালিতে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ সুপার, হুসেন মেহেদি হাসান জানান, ‘গত কয়েকদিনের ঘটনায় বিভিন্ন মামলা রুজু করেছে। গত সাত দিনে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি। ওখানকার অবস্থা নিয়ন্ত্রণে। যথেষ্ট বাহিনী আছে।’ একটা অভিযোগ উঠে এসেছে, মহিলাদের যৌন নির্যাতন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে বলেছি, যদি কারও কোনও অভিযোগ থাকে তাঁরা অভিযোগ জানাতে পারে। এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণের মামলা যুক্ত করা হল। ওই মহিলার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, এই শিবু হাজরার বিরুদ্ধেই সন্দেশখালির গ্রামের মহিলারা সাংঘাতিক সব অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর লোকজনই গ্রামের মহিলাদের বিকেলের পর পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ ওঠে। নানা অসামাজিক কাজে শিবুর নাম যেমন জড়ায়, যৌন নির্যাতনের মত ঘটনাতেও নাম ওঠে শিবু হাজরার। এদিকে উত্তম সর্দার গ্রেপ্তার হলেও কেন শিবুকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ বেড়েই চলেছিল সন্দেশখালিতে। এই আবহে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় শিবুকে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের তত্ব খারিজ করে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয় বহিরাগতদের আনা হয়নি। এদিন পুলিশ সুপার আরও জানান, পুলিশের তরফে কিছু লুকনোর চেষ্টা হচ্ছে না। তিনি জানিয়ে দেন, শান্তি ভঙ্গ করলে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত সন্দেশখালির পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি পুলিশের। তবে পুলিশ সুপার এদিন আরও জানান, যদিও কোনও মহিলার নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে, তাঁরা নির্দ্বিধায় এসে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানতে পারেন।

সন্দেশখালি এলাকায় মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে বিতর্ক চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বিরোধীদের দাবি, মহিলারা যখন নিজে থেকে এগিয়ে এসে তাঁদের উপর অত্যাচারের কথা জানাচ্ছেন, সেখানে তাঁদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না সরকারের তরফে। রাজ্যের শাসক দল, এর আগে দাবি জানিয়েছেন, ওখানে অনেক মহিলাকে সাজিয়ে নানা রকম অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, মহিলাদের সঙ্গে যদি খুব অন্যায়জনক কাজ হয়ে থাকে, তাহলে এলাকার সিপিএম বা বিজেপি নেতারা কেন এতদিন মুখ খুললেন না। মহিলারা ভয়ে এগিয়ে না আসলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা কেন নিশ্চুপ ছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল।  ভোটের আগে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি ছিল তৃণমূলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *