হুগলি : তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে কেঁদে ভাসান। এমন ভিডিও প্রায় প্রতিবছরই ভাইরাল হয়। পালাবদলের পরও সেই ‘ঐতিহ্য’ বজায় রইল। ‘ক্ষমা করিস মা’!
মহাঅষ্টমীর পুজোয় আবেগপ্রবণ হয়ে বলতে থাকেন তৃণমূল সাংসদ। আর তাই দেখে সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে কটাক্ষ করেন নেটনাগরিকদের একাংশ।
সামাজিক মাধ্যমে পরিবেশিত কল্যাণ বাবুর ভিডিও দেখে অমিয় মুখার্জি লিখেছেন, “এ ব্যাটা আগের থেকে স্টক করে রাখে।” শ্রাবণী মণ্ডল সনাতনী লিখেছেন, “সত্যি লোকটা ভালো নাটকটা পারে!” দেবাঞ্জন ঘোষ
লিখেছেন, “মা দুর্গার উচিত ছিল মহিষাসুর এর পাশে এটাকেও টেনে নেওয়া।” পল্টু কর্মকার লিখেছেন, “একমাত্র পাপীরাই ক্ষমা চায়….।”
প্রসঙ্গত, শ্রীরামপুরে নিজের আবাসনের পুজোতে মহাঅষ্টমীর পুজোয় কেঁদে ভাসালেন তৃণমূল সাংসদ। সেই ভিডিও এবারও যথারীতি নেট মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ আবার বলছেন, ‘প্রতি বছর তাঁর এই এক নাটক!’
উল্লেখ্য, শ্রীরামপুর ৫ ও ৬ নম্বর পল্লি গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির দুর্গাপুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বছর শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন আরএমএস মাঠে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হতো এই পুজো। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোর সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া এবং চোখের জলে মাকে স্মরণ করার দৃশ্যও ছিল পরিচিত। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের পুজোর চিত্র বদলেছে। আরএমএস মাঠের পুজোর দায়িত্ব এখন বিজেপির হাতে। ফলে এবারের পুজোয় আরএমএস মাঠে দেখা মেলেনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরে তাঁর আবাসন গঙ্গাদর্শনের দুর্গাপুজোয় দেখা গেল সাংসদকে। সেখানেই সন্ধিপুজো শেষে ‘মা মা’ বলে কেঁদে ভাসাতে দেখা যায় তাঁকে।

