এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ম্যারাথনে ৪৪ বছর পর ফের পদক এনে দিলেন ভারতের সাওয়ান বারওয়াল। নাগোয়ায় জাতীয় রেকর্ড গড়ে রুপো জিতলেন ২৮ বছরের এই সেনা অ্যাথলিট। তাঁর সময় ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড। সোনা জিতেছেন জাপানের ইচিতাকা ইয়ামাশিতা এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছেন চিনের পেইয়ো ফেং।
১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে হোসুর কুক্কাপ্পা সীতারান পুরুষদের ম্যারাথনে ব্রোঞ্জ জেতার পর এত বছর ভারত আর কোনও পদক পায়নি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন সাওয়ান। শুধু পদকই নয়, নিজের গড়া জাতীয় রেকর্ডও আরও উন্নত করলেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের আগে সাওয়ানের প্রস্তুতিও ছিল কঠোর। রটারডামে নিজের প্রথম ম্যারাথনে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড সময় করে তিনি শিবনাথ সিংহের ৪৮ বছরের পুরনো জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছিলেন। এরপরই শুরু হয় এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি। প্রথমে উটির উচ্চতায় অনুশীলন করেন তিনি। পরে প্রায় দু’মাস যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্প্রিংসে প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের সঙ্গে অনুশীলন তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ম্যারাথনের শেষ কয়েক কিলোমিটারকে সামনে রেখেই তৈরি হয়েছিল তাঁর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা। অভিজ্ঞদের পরামর্শ ছিল, ৩৫ কিলোমিটার পার করার পরই আসল পরীক্ষা। তাই এক সপ্তাহ অন্তর ৪০ থেকে ৪২ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ দৌড়ের অনুশীলন করতেন সাওয়ান। কখনও ৪০-৪১ কিলোমিটার দৌড়তেন নির্ধারিত গতির তুলনায় কিছুটা ধীর গতিতে, যাতে ক্লান্ত শরীরেও দৌড় চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়।
সপ্তাহে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দৌড়ের পাশাপাশি দ্রুতগতির অনুশীলন, দীর্ঘ দৌড় এবং নির্দিষ্ট গতিতে দৌড়ের প্রশিক্ষণ চলত তাঁর। নাগোয়ার দৌড়েও শুরু থেকেই সামনের সারিতে ছিলেন সাওয়ান। প্রায় ১০ কিলোমিটার থেকে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত নেতৃত্ব ধরে রাখেন। শেষ দিকে ইয়ামাশিতা গতি বাড়িয়ে এগিয়ে গেলেও লড়াই ছাড়েননি ভারতীয় দৌড়বিদ।
সাওয়ানের লক্ষ্য ছিল না শুধু রেকর্ড ভাঙা। তাঁর কথায়, রেকর্ডের কথা মাথায় না রেখে মূল লক্ষ্য ছিল পদক জেতা। সেই লক্ষ্যেই ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখলেন তিনি।

