মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুর্দশা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। একসময় আইপিএলের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে পরিচিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি চলতি মরশুমে বারবার ব্যর্থতার মুখে পড়ছে। বুধবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচেও সেই একই ছবি দেখা গেল। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও শেষ পর্যন্ত বোলিং ব্যর্থতায় ৬ উইকেটে হার মানতে হল হার্দিক পাণ্ডিয়ার দলকে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, ২৪৩ রানের বিশাল স্কোরও রক্ষা করতে পারল না মুম্বই।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক হার্দিক। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে নামেন মুম্বইয়ের দুই ওপেনার। প্রথম উইকেটেই ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন উইল জ্যাকস ও রায়ান রিকলটন। জ্যাকস ৪৫ রান করে ফিরলেও অন্য প্রান্তে বিধ্বংসী ব্যাটিং চালিয়ে যান রিকলটন।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটার এদিন একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ইনিংস খেলেন। মাত্র ৫৫ বলে ১২৩ রান করে তিনি আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নজির গড়েন। তাঁর ইনিংসে ছিল চার ও ছক্কার ঝড়। পাশাপাশি মাত্র ৪৪ বলে শতরান পূর্ণ করে মুম্বইয়ের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও নিজের নামে তুলে নেন। শেষ দিকে অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়াও ঝোড়ো ব্যাটিং করে ১৫ বলে ৩১ রান করেন। ফলে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৩ রান তোলে মুম্বই।
এত বড় রান তোলার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ম্যাচ কার্যত মুম্বইয়ের হাতেই। কিন্তু ওয়াংখেড়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে হায়দরাবাদের ব্যাটাররা শুরু থেকেই অন্য পরিকল্পনা নিয়ে নামে। পাওয়ার প্লেতেই মুম্বই বোলারদের উপর চড়াও হন অভিষেক শর্মা ও ট্র্যাভিস হেড। অভিষেক ২৪ বলে ৪৫ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে দলের রান অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।
এরপর একাই ঝড় তোলেন ট্র্যাভিস হেড। মাত্র ৩০ বলে ৭৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচ পুরোপুরি হায়দরাবাদের দিকে ঘুরিয়ে দেন। ঈশান কিষান এদিন বড় রান করতে না পারলেও তাতে কোনও সমস্যা হয়নি। কারণ পরের দিকে হেনরিখ ক্লাসেন আরও বিধ্বংসী রূপে হাজির হন। তিনি ৩০ বলে ৬৫ রান করে শেষ কাজটা সহজ করে দেন।
মুম্বইয়ের বোলারদের এদিন কোনও পরিকল্পনাই কাজে আসেনি। লাইন-লেন্থে ভুল, বাড়তি রান দেওয়া এবং চাপ তৈরি করতে না পারা—সব মিলিয়ে একেবারেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখা যায়। ফলে ৮ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
এই হারের ফলে মুম্বইয়ের প্লে-অফের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেল বললেই চলে। আট ম্যাচে মাত্র দু’টি জয় নিয়ে তারা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে হায়দরাবাদ নয় ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে প্লে-অফের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। মুম্বইয়ের জন্য এখন বাকি মরশুম শুধুই বাঁচা-মরার লড়াই।

