আহমেদাবাদে নামার আগে দারুণ ছন্দে ছিল বেঙ্গালুরু। দেবদত্ত পাড়িক্কল, রজত পাতিদার ও টিম ডেভিডদের আগ্রাসী ব্যাটিং, সঙ্গে ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজেলউডের কার্যকরী বোলিং;সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছিল দলটি। বিশেষ করে আগের ম্যাচে দিল্লিকে মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর জয়ের ধারা বজায় রাখার প্রত্যাশাই ছিল বেশি। টানা তৃতীয় জয়ের লক্ষ্যে নামলেও, গুজরাটের মাঠে গিয়ে সেই ছন্দ আর ধরে রাখতে পারল না তারা।
এই ম্যাচে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং লাইনআপই হয়ে উঠল তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। মরশুমে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাটাররা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলেন। অধিনায়ক বিরাট কোহলি-সহ প্রথম সারির কেউই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারলেন না। একমাত্র দেবদত্ত পাড়িক্কল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৪ বলে ৪০ রানের তাঁর ইনিংস না থাকলে স্কোর আরও কমে যেত। কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় দল। দীর্ঘ ১২ ম্যাচ পর আইপিএলে অলআউট হওয়ার লজ্জাও সঙ্গী হয় বেঙ্গালুরুর।
গুজরাটের বোলাররা এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা নেন। আরশাদ খান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। পাশাপাশি জেসন হোল্ডার ও রশিদ খান দু’টি করে উইকেট ভাগ করে নেন। শুরু থেকেই চাপে ফেলে দেন বেঙ্গালুরুর ব্যাটারদের।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাট শুরুটা করে দুর্দান্তভাবে। অধিনায়ক শুভমান গিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। দ্রুত রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। যদিও ভুবনেশ্বর কুমারের ইনকাটারে সাই সুদর্শন দ্রুত ফিরে যান, তবু গিলের ঝড়ো ব্যাটিং থামেনি। অন্যদিকে, জস বাটলার প্রথমেই একটি সহজ ক্যাচ জীবন পান, যা পরে বড় হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মাত্র ১৯ বলে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
গিল ১৮ বলে ৪৩ রান করে আউট হন। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর ও শাহরুখ খান বেশি কিছু করতে না পারায় একসময় চাপে পড়ে যায় গুজরাট। ১১১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ তখন দুই দিকেই যেতে পারত। কিন্তু সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রাহুল তেওয়াটিয়া ও জেসন হোল্ডার। দু’জন মিলে গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। হোল্ডার বেশি দূর এগোতে না পারলেও, তেওয়াটিয়া শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের পথে পৌঁছে দেন।
বেঙ্গালুরুর হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার আবারও ভালো বোলিং করেন। ২৮ রানে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি লড়াই জারি রাখেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে জশ হ্যাজেলউডের ব্যর্থতা দলের ক্ষতি করে। চার ওভারে ৫৬ রান দিয়ে তিনি ম্যাচের রাশ গুজরাটের হাতে তুলে দেন।
শেষ পর্যন্ত চার উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাট। ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বোলিং ভেঙে পড়াই বেঙ্গালুরুর হারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

