চোরবাগান কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের হাতে আটক গোঘাটের রাজেশ পাল, ছেলেকে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর আকুল আর্জি পরিবারের

আরামবাগ : দুর্গাপূজার মরশুমে বাড়তি কিছু উপার্জনের আশায় কলকাতা শহরে সিকিউরিটি গার্ডের কাজে গিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন হুগলির গোঘাটের এক যুবক। কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন গোঘাট থানার মান্দারণ অঞ্চলের ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ পাল। ছেলের আটক হওয়ার খবর গ্রামে পৌঁছতেই পরিবারে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অবিলম্বে রাজেশকে নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তাঁর পরিজনেরা।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের সন্তান রাজেশ। তাঁর বাবা দিনমজুর ও খেতমজুরের কাজ করে অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালান। পরিবারের অনটন দূর করতেই প্রতিবছর পুজোর সময়ে কলকাতায় বিভিন্ন সিকিউরিটি এজেন্সির অধীনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতে যান রাজেশ। এবছরও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং উৎসবের কটা দিন বাড়তি আয়ের আশায় তিনি কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু পুজোয় কাজ করতে গিয়ে এমন এক মারাত্মক পরিস্থিতির মুখে তাঁকে পড়তে হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পরিবারের কেউ।

​রাজেশের আটকের খবর বাড়িতে পৌঁছতেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে একটাই প্রশ্ন, চোরবাগানের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঠিক কী ভূমিকা ছিল রাজেশের এবং কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করল? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য বা বিশদ বিবরণ সামনে আসেনি।

​ রাজেশের পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক, যাতে আইনের সঠিক মারপ্যাচে আসল সত্য প্রকাশ্যে আসে। একইসঙ্গে রাজেশের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রশাসন যেন স্পষ্ট করে জানায়। পরিজনদের একটাই আকুল আবেদন, পরিস্থিতির কথা মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে যেন দ্রুত রাজেশকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

​ উৎসবের আনন্দের মরশুমে পরিবারের আর্থিক অভাব মেটানোর স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় কাজে গিয়ে আজ চরম বিপদের মুখে রাজেশ। আদরের ছেলে কবে পুলিশের আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরবেন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা ও পরিবারের বাকি সদস্যরা। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোঘাটের ভগবানপুর গ্রামের এই হতদরিদ্র পরিবারটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 14 =