ইডেন গার্ডেন্সে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচ মানেই যেন এক অদ্ভুত সমাপতন—বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তা। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই আকাশের মুখ ভার ছিল, আর বল গড়াতেই নেমে এল প্রবল বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত খেলা আর এগোতে পারল না, বাতিল হয়ে গেল ম্যাচ। ফলে দু’দলই পেল একটি করে পয়েন্ট, যা কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও সমস্যার সমাধান নয়।
এর আগে টানা দুই ম্যাচে হার—প্রথমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, তারপর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে—নাইটদের যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিল। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছিল একের পর এক প্রশ্ন। বিশেষ করে বোলিং আক্রমণে ধার কম, শেষের দিকে ব্যাটিংয়ে দুর্বলতা, স্পিনারদের ফর্মহীনতা এবং বিকল্প পরিকল্পনার অভাব—সব মিলিয়ে দলের অবস্থা ছিল বেশ নড়বড়ে। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সমালোচনাও ক্রমশ বাড়ছিল।
এই পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ। কিন্তু দল গঠনে বড়সড় চমক দেন অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। দীর্ঘদিনের দুই ভরসাযোগ্য স্পিনার সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীকে ছাড়াই মাঠে নামে কেকেআর। জানা যায়, নারিন অসুস্থ এবং বরুণ আগের ম্যাচে চোট পেয়েছেন। প্রায় সাত বছর পর এই দুই গুরুত্বপূর্ণ স্পিনারকে ছাড়া খেলতে নামা নিঃসন্দেহে বড় সিদ্ধান্ত। যদিও এটাও ঠিক, সাম্প্রতিক সময়ে দু’জনেই নিজেদের সেরা ফর্মে ছিলেন না।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা। কিন্তু ইনিংসের শুরুর দিকেই বৃষ্টি এসে সব পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয়। মাত্র কয়েক ওভার খেলা হওয়ার পরই বৃষ্টি এতটাই বাড়ে যে খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও তখন হতাশা। কেউ অপেক্ষা করছেন, কেউ বা ক্লান্ত হয়ে চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা থামলেও মাঠ খেলার উপযুক্ত করে তোলা সহজ ছিল না। মাঠকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালান, ধীরে ধীরে কভার সরানো হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মাঠে নামেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়। এমনকি পাঞ্জাব কিংসের কোচ রিকি পন্টিংও মাঠে এসে ঘাস ছুঁয়ে দেখেন, পরিস্থিতি কতটা খেলার উপযোগী।
তবুও শেষরক্ষা হল না। সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাচ আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আবারও বৃষ্টির কাছে হার মানল ইডেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কেকেআরের জন্য এই এক পয়েন্ট সাময়িক স্বস্তি দিলেও দলের মূল সমস্যাগুলি থেকেই গেল অমীমাংসিত। সামনে কঠিন লড়াই, আর সেখানে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

