নামী আইটি সংস্থার চাকরি ছেড়ে সাইবার প্রতারণা!

হুগলি : চন্দননগর পুলিশের জালে ১২ অভিযুক্ত, উদ্ধার একাধিক ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও নথি। আবারও সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত চালিয়ে ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে চন্দননগর পুলিশের সাইবার থানার গোয়েন্দারা। ধৃতদের বয়স ২২ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে উত্তরপাড়ার এক যুবক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা শেষ করে একটি নামী মাল্টিন্যাশনাল আইটি সংস্থায় চাকরি করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে তিনি সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি।

ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড, চেকবই, ব্যাঙ্কের পাসবই-সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি। এছাড়াও তিনটি মোবাইল ফোন এবং সাতটি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করে সাইবার প্রতারণা চালাত। বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্তে নামে চন্দননগর পুলিশের সাইবার থানা। তদন্তের সূত্র ধরেই একে একে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে ডিসি ডিডি রূপান্তর সেনগুপ্ত জানান, ধৃতদের বাড়ি বিভিন্ন এলাকায়। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও সকলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। তবে প্রতারণার কৌশল অনেকটাই একই ধরনের বলে জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কখনও হোয়াটসঅ্যাপ বা মোবাইল মেসেজে লিঙ্ক পাঠিয়ে, আবার কখনও সাহায্য করার অছিলায় সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করা হতো। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও বহু ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারে। অনেকটা জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায় গোটা দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে থাকায় সম্পূর্ণ চক্রের হদিশ পেতে সময় লাগতে পারে।

এখনও পর্যন্ত ঠিক কতজন মানুষের কাছ থেকে কত টাকা প্রতারণা করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ হিসাব পুলিশের হাতে আসেনি। তদন্ত চলছে।

সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ডিসি ডিডি রূপান্তর সেনগুপ্তের আবেদন, কোনও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাঙ্কের তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ নথি শেয়ার করা যাবে না। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

চন্দননগর পুলিশের এই অভিযানে সাইবার প্রতারণা চক্রের একটি বড় অংশের হদিশ মিললেও, গোটা নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, এখন সেটাই তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 7 =