বৃথা ট্র্যভিষেক ঝড়, নিজামদের ৩০০ এর স্বপ্ন ভেঙে সহজেই টপকে গেল পাঞ্জাব কিংস

বৃথা ট্র্যভিষেক ঝড়, নিজামদের ৩০০ এর স্বপ্ন ভেঙে মুল্লানপুরে বিজয়গর্জন পাঞ্জাবের
আইপিএলে তিনশো রানের স্বপ্ন যেন হাতছানি দিচ্ছিল। পাঞ্জাবের মুল্লানপুরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শুরু দেখে মনে হচ্ছিল, ইতিহাস গড়তে আর বেশি দেরি নেই। কিন্তু দুরন্ত সূচনার পর মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে তারা থামল ২১৯ রানে। সেই লক্ষ্য পরে সহজেই টপকে গেল পাঞ্জাব কিংস। ৬ উইকেটের জয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার ওপরের দিকেই নিজেদের জায়গা আরও মজবুত করল।
সানরাইজার্সের ইনিংসের শুরুটাই ছিল বিস্ফোরক। ওপেনার অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই পাঞ্জাবের বোলারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে দলের স্কোর পৌঁছে যায় ১০৫ রানে, যা এবারের আইপিএলে নতুন রেকর্ড। মাঠের চারদিকে শট খেলছিলেন অভিষেক। কখনও কভার দিয়ে, কখনও স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে, আবার কখনও সোজা সাইটস্ক্রিনের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ট্র্যাভিস হেডও দ্রুত রান তুলছিলেন। মাত্র ৮ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ১২০।
অভিষেকের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যক্তিগত শতরান তো হবেই, সঙ্গে দলও ২৫০-র গণ্ডি পার করবে। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের এক কৌশলী সিদ্ধান্তে। তিনি শশাঙ্ক সিংকে বল হাতে আনেন, আর সেই ওভারেই ফেরেন ট্র্যাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। অভিষেক ২৮ বলে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা।
দুই সেট ব্যাটার ফিরে যেতেই সানরাইজার্সের রান তোলার গতি কমে যায়। অনিকেত বর্মা ঝড় তোলার চেষ্টা করলেও রান আউট হন ভুল বোঝাবুঝিতে। ঈশান কিষানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। হেনরিখ ক্লাসেন কিছুটা লড়াই করলেও তাঁর ৩৯ রান আসে ধীর গতিতে। ফলে শেষ ১২ ওভারে সানরাইজার্স তোলে মাত্র ৯৯ রান। যে দল একসময় ৩০০-র স্বপ্ন দেখাচ্ছিল, তারা শেষ পর্যন্ত আটকে যায় ২১৯-এ।
তবে মুল্লানপুরের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই রান মোটেও নিরাপদ ছিল না। পাঞ্জাব কিংস রান তাড়ায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরন সিং দারুণ ব্যাটিং করেন। দু’জনেই অযথা ঝুঁকি না নিয়ে সুযোগ বুঝে আক্রমণ করেন। পাওয়ারপ্লে থেকেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। দু’জনেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং দলের ভিত গড়ে দেন।
এরপর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তিনি বুঝেশুনে ব্যাটিং করেন, কোন বোলারকে আক্রমণ করতে হবে আর কোথায় শান্ত থাকতে হবে, তা নিখুঁতভাবে মেপে খেলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। তাঁর ইনিংসে ছিল নেতৃত্ব, পরিণতিবোধ এবং ম্যাচ শেষ করার দক্ষতা।
এই জয়ের ফলে পাঞ্জাব কিংস আরও একবার বুঝিয়ে দিল, তারা শুধু প্রতিভাবান দল নয়, চাপের ম্যাচ জিততেও জানে। অন্যদিকে সানরাইজার্সের জন্য এই হার শিক্ষা হয়ে থাকল—শুধু ঝড়ো শুরু করলেই হয় না, শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রাখাও সমান জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + thirteen =