একটি গ্রাম চালানোর ক্ষমতা নেই তিনি আবার লোকসভার প্রার্থী, মিতালি বাগকে কটাক্ষ বিমানের

আরামবাগ: আরামবাগ লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থী মিতালি বাগকে তীব্র কটাক্ষ করল বিজেপি নেতৃত্ব। সামান্য গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের একটি গ্রাম চালানোর যার ক্ষমতা নেই, তিনি কিভাবে লোকসভার প্রার্থী হন। হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে নিজের গ্রামের মানুষের জন্য তিনি কি করেছেন সেই বিষয়টি মাথায় রাখলেই আরামবাগ লোকসভার মানুষ বাকিটা বুঝে যাবে। এই ভাবেই কটাক্ষ করেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিমান ঘোষ।

যদিও বিজেপি নেতার এই মন্তব্যকে পাত্তা দিতে নারাজ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার আরামবাগ লোকসভায় শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী মিতালি বাগ কামারপুকুর মঠ ও মিশনে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের আশীর্বাদ নিয়ে জনগণের আশীর্বাদ নিতে পৌঁছে যান। তবে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল প্রার্থী মিতালি বাগ নাকি সন্ন্যাস নিয়ে নেবেন, এমনটাই মনে করে ছিলেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু না, তিনি সন্ন্যাস নয় মানব সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেছেন। তাই এবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে লোকসভা ভোটে আরামবাগ থেকে লড়াই করার জন্য টিকিট পেয়েছেন তিনি। কিন্তু পুরনো ভক্তির জায়গা আজও তাকে টানে আর তাই ভোট প্রচার শুরুর আগে কামারপুকুর মিশনে গিয়ে ঠাকুরের আশীর্বাদ নিয়ে ভোট প্রচার শুরু করলেন তিনি। রবিবার ব্রিগেড সমাবেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার নাম ঘোষণা করেন। তারপরেই গোঘাটে বাড়ি ফেরার পথে তারকেশ্বরের শিবের মন্দিরে পুজো দেন তিনি। আর সোমবার সকালে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ মিশনে পুজো দিয়ে ঠাকুরের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মভিটেতে গিয়ে ঠাকুরের আশীর্বাদ নিয়ে ভোট প্রচার শুরু করছেন।

এই বিষয়ে মিতালি বাগ জানালেন, গুরুজনের আশীর্বাদ, মা-বাবার আশীর্বাদ ছাড়া, এই জায়গায় আমি পৌঁছতে পারতাম না। তবে গুরুজনদের আশীর্বাদের সঙ্গে ঈশ্বরের আশীর্বাদও নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। আর তাই রামকৃষ্ণ মিশনে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে আজকে তিনি ভোট প্রচার শুরু করছেন তিনি। তিনি এও বলেন, প্রার্থনার জন্য মঠ মিশন মন্দির মসজিদকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। তবে আরামবাগাসীর জন্য কি কি করবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের বলার আগে, করার আগে দিদিমণি অনেক কিছু বলেছেন। দিদির নজর আছে। শুধু শহরের দিকে নয়, গ্রামের দিকেও নেমে গেছেন, এই মন্তব্য নিয়ে বিরোধী বিজেপি নেতৃত্ব কটাক্ষ করেন। তাদের বক্তব্য, একজন তৃণমূল প্রার্থী যদি কোনও পরিকল্পনা না থাকে অথবা উন্নয়নের যদি সঠিক দিশা না থাকে তাহলে তিনি মানুষের জন্য কি কাজ করবেন। সবমিলিয়ে এবারের লোকসভা ভোটে আরামবাগ লোকসভায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − three =