“বর্তমানে কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই”, মিলন প্রধান মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার কলকাতা হাইকোর্টের

কলকাতা : নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের দায়ের করা আবেদনে কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত কোনও প্রকার পদক্ষেপ বা হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল। মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি চলাকালীন উচ্চ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে বিষয়টিতে কোনও বিশেষ নির্দেশ জারি করার প্রয়োজনীয়তা নেই। এর আগে সোমবার হলদিয়া মহকুমা আদালত মিলন প্রধানকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। এ ছাড়া কাঁথি আদালতের সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি মামলাতেও তাঁকে জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে, যার পরবর্তী শুনানি ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচার কর্মসূচি আগামী ৪ অক্টোবর শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে আইনি সুরক্ষার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

উচ্চ আদালতে মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করে বলেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালের একটি অত্যন্ত পুরনো মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৫ বছর আগের একটি পুরনো মামলায় হঠাৎ করে করা এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার এক পরিকল্পিত চেষ্টা বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, আবেদনকারীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, এটি সত্য যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ২০০৭ সালের, তবে পুরো বিষয়টি নির্বাচনকালে জারি হওয়া আদর্শ আচরণবিধির আওতাতেই করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই শুধু মিলন প্রধান নন, অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা সমস্ত বকেয়া ওয়ারেন্ট কার্যকর করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার আদালতকে সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বস্ত করে জানায় যে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে উল্লেখ করা অন্য যে পাঁচটি মামলা রয়েছে, সেগুলিতে এই মুহূর্তে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। রাজ্য সরকারের এই বিবৃতি হাইকোর্ট গ্রহণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + twenty =