নয়াদিল্লি : ভারতীয় বায়ুসেনার ২৯-তম প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এয়ার চিফ মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রবিবার জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে গিয়ে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মবলিদান দেওয়া বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জানান, দেশের সার্বিক সুরক্ষা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র মোকাবিলায় বায়ুসেনাকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুত থাকতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নতুন বায়ুসেনা প্রধান বলেন, “ভারতীয় বায়ুসেনার ২৯-তম প্রধান হিসেবে এই বাহিনীর নেতৃত্বভার গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত। আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি তথা আমাদের সর্বাধিনায়ক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এদিন সকালে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে গিয়ে আমি বীর জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়েছি। তাঁদের এই অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগই হবে আমাদের নিজেদের যাচাই করার মাপকাঠি।”
বিদায়ী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিংয়ের কাছ থেকে এই দায়িত্বভার গ্রহণ করছি। তাঁর নেতৃত্বে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় বায়ুসেনা প্রমাণ করে দিয়েছিল যে নির্ভুল ও সুনির্দিষ্ট আকাশ শক্তি কতটা কার্যকর ও নির্ণায়ক হতে পারে। একটি উচ্চমাত্রার যুদ্ধপ্রস্তুতিতে থাকা বাহিনী আমার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও সামরিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এয়ার চিফ মার্শাল দীক্ষিত বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তদুপরি ড্রোন, দূরপাল্লার প্রিসিশন অস্ত্র, মহাকাশ, সাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের মতো নিত্যনতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব আধুনিক যুদ্ধের ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। আগামী দশকের জন্য ভারতের যে ধরনের সামরিক শক্তির প্রয়োজন, সেই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনাকে সর্বদা যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ জয় করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

