সুহেলের গোলে কষ্টার্জিত জয় মোহনবাগানের

ঋতিকা চক্রবর্তী: মঙ্গলবার কলকাতা লিগের ম্যাচে খাতায় কলমে কঠিন প্রতিপক্ষই ছিল মোহনবাগানের সামনে। ঘরের মাঠে ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ম্যাচজুড়ে গোল মিসের বন্যা, ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেন সুহেল ভাটরা। যদিও সুহেলের একমাত্র গোল থেকেই ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে মোহনায়। বাকি একাধিক সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেল, যা প্রায় সবই নষ্ট করেন।
ম্যাচ দেখতে ভিআইপি বক্সে আসেন মোহনবাগান হেড কোচ পানাগিওটিস ডিলমপেরিস। তবে দলের এই খেলা দেখে আদৌ সন্তুষ্ট হয়ে ফিরতে পারলেন কিনা বোঝা দায়। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠেছিলেন সায়ন ব্যানার্জি। তাঁর মাইনাস আটকে দেয় ইউকেএসসির ডিফেন্ডাররা। পাঁচ মিনিটের মাথায় গোগোচার গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। ম্যাচ শেষে অবশ্য বাগান কোচ বাস্তব রায় জানিয়ে গেলেন, ওটা মোটেও অফসাইড ছিল না। ৪৩ মিনিটে বক্সের ভিতর বাঁ দিক থেকে সায়নের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করেন সুহেল ভাট। ৬১ মিনিটে ফাঁকা গোল পেয়েও বাইরে হেড করলেন সুহেল। ৬৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রোহিত সিংয়ের সেন্টার থেকে আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ৮২ মিনিটে ইউনাইটেড কলকাতার উমের শাকিলের দূরপাল্লার শট জাহিদের বুকে লেগে বেরিয়ে যায়। ফিরতি বল জবি ধরতে গেলে জাহিদ এগিয়ে আসেন সেভ করতে। জবির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি মিস করলেন বিদ্যাসাগর সিং। ৮৭ মিনিটে বাঁদিক থেকে সায়ন বল নিয়ে এগোলে তাঁকে ফাউল করেন অমিত টুডু। লাল কার্ড (দ্বিতীয় হলুদ) দেখে বাইরে যেতে হয় অমিতকে। সংযুক্ত সময়ে উমের মোক্তারকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জবি জাস্টিনকে। ম্যাচ শেষে দুই দলের মধ্যেই তর্কাতর্কি চলতে থাকে।
এদিকে কলকাতা লিগের ম্যাচ দেখতে মোহনবাগান মাঠে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ক্লাব তাঁবুতে এসে মোহনবাগানের ঐতিহ্য ও ট্রফি ক্যাবিনেট ঘুরে দেখলেন তিনি। মন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস। অমর একাদশের মূর্তির সামনেও গিয়ে শ্রদ্ধা জানান ক্রীড়ামন্ত্রী। ক্লাব তাঁবু ঘুরে দেখার পর সোজা সবুজ-মেরুন গ্যালারিতে চলে যান তিনি। বাগান জনতার মাঝে বসে খেলা দেখলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 2 =