ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগান

ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে জামশেদপুর এফসিকে হারাল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। জমশেদপুর এফসি-কে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত এই ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হয়। মোহনবাগানের পক্ষে সাহাল আব্দুল সামাদ এবং জামশেদপুরের পক্ষে দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর গোল করেন। এরপর একটি দীর্ঘস্থায়ী টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেয় মোহনবাগান।
টাইব্রেকারের লড়াই গড়ায় সাডেন ডেথ পর্যন্ত, যেখানে দু’দলের প্রথম ১৬টি শটই গোলে রূপান্তরিত হয়। সাডেন ডেথের চতুর্থ কিকে লমসাংজুয়ালার শট রুখে দেন মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। এরপর টেকচাম অভিষেক সিং এসে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন। আগামী ২০ আগস্ট শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা সেমিফাইনালে বিজয়ী দল মুখোমুখি হবে শিলং লাজং এফসি এবং নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র মধ্যেকার চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী দলের।
ম্যাচের শুরুটা ভালো করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, দ্বিতীয় মিনিটেই লিড নেয় তারা। রশিতেই মিতেইকে দেওয়া প্রণয় হালদারের পাস জামশেদপুর ডিফেন্ডার সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বল পেয়ে যান সাহাল। তিনি বক্সে ঢুকে ডানদিকের নীচু শটে বল জালে জড়িয়ে বাগানকে এগিয়ে দেন। এই গোলের পর চনমনে হয়ে ওঠা মোহনবাগান ম্যাচের শুরুর দিকে প্রবল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। টেকচাম অভিষেক সিং এবং শুভাশিস বোস দুই প্রান্ত দিয়ে নিয়মিত ওভারল্যাপ করে আক্রমণে উঠছিলেন, যার ফলে জমশেদপুর এফসি-র রক্ষণভাগকে তাঁদের সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে জামশেদপুর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে। ১৭ মিনিটে তারা একটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। লালরিয়াতপুইয়া ছাংতে বক্সে দৌড়ে আসা আমন সিকে-কে একটি চমৎকার থ্রু বল বাড়ান। বাঁদিক থেকে নেওয়া আমানের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। ২৫ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক থেকে জকমশেদপুর আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ছাংতের ক্রস দূর পোস্টে প্রতীক চৌধুরী খুঁজে পেলেও তাঁর শটটি বারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর দুটি ভালো সুযোগ পায় মোহনবাগান। ২৭ মিনিটে ডানপ্রান্তে সাহাল ও লিস্টন কোলাসো পাসিং ফুটবল খেলে বক্সে থাকা দেজান দ্রাজিচকে ক্রস বাড়ান। সার্বিয়ান এই ফরোয়ার্ডের সামনে ফাঁকা হেডার থাকলেও তিনি বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ছয় মিনিট পর দ্রাজিচ আরও একবার সুযোগ নষ্ট করেন, যখন ডানপ্রান্ত থেকে অভিষেকের ক্রসে নেওয়া তাঁর ফার্স্ট-টাইম ভলিটি ব্যাটে-বলে ঠিকমতো লাগেনি।
দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ বজায় রেখেছিল মোহনবাগান। ৩৭ মিনিটে সাহাল বল বাড়িয়ে দেন লালেংমাউইয়া রালতের (অপুঁইয়া) উদ্দেশ্যে, কিন্তু বক্সের প্রান্ত থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে উড়ে যায়। ঠিক প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। মোহনবাগান বক্সের বাইরে বল পেয়ে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে দূর থেকে শট নেন রশিতেই। বিশাল  সেই শটটি কোনওমতে প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন দেবেন্দ্র, ফলে ১-১ স্কোরে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। পরিবর্ত হিসেবে নামা সমীর জেলকোভিচ তাঁর পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বক্সের ভেতরে সাহালকে পাস বাড়ান। সাহাল ভেতরে  ঢুকে শট নিলেও বল বারের উপর দিয়ে চলে যায়। দুই মিনিট পর কিয়ান নাসিরির কর্নার থেকে আলবার্তো রদ্রিগেজ হেড করলেও খুব কাছ থেকে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬১ মিনিটে জেলকোভিচ বাঁদিক থেকে ভেতরে কেটে ঢুকে আবার চেষ্টা চালান, কিন্তু তাঁর শটে জমশেদপুর গোলরক্ষক আলবিনো গোমসকে পরাস্ত করার মতো সুইং ছিল না।
৬৩ মিনিটে মোহনবাগান একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। আলবিনো গোললাইন ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে এসেও বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন, সাহাল তাঁর থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে লিস্টনকে পাস বাড়ান। কিন্তু লিস্টন বল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সুবর্ণ সুযোগটি নষ্ট হয়।
পাল্টা জবাবে ৬৬ মিনিটে আমান আবারও মোহনবাগান রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে সনন মহম্মদকে বল পাস করেন, কিন্তু সননের নেওয়া ফার্স্ট-টাইম শটটি অনেক উঁচুতে এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চলে যায়।
শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলের জন্য মোহনবাগান ফুটবলাররা ওপরের দিকে উঠে খেললেও, জামশেদপুরের রক্ষণভাগ দলগতভাবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কোরলাইন ধরে রাখে। ইনজুরি টাইমের একদম শেষ মুহূর্তে সায়ন দূর থেকে নেওয়া শট গোলকিপার আলবিনো বাঁচিয়ে দেন। এই ম্যাচই জামশেদপুর এফসির জন্য শেষ ম্যাচ। জামশেদপুর এফসির লাইসেন্সে এবার আইএসএল খেলবে চার্চিল ব্রাদার্স। ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ ফুটবলাররা। প্রণয় হালদার, সার্থক গলুইদের ভালোবাসায় ভরালেন মোহনবাগান সমর্থকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =