ভবানীপুরকে হারিয়ে জে সি মুখার্জি টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

কলকাতার ক্রিকেটে বুধবার ইডেন উদ্যান সাক্ষী থাকল এক রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের। জে সি মুখার্জি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতল মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। ফাইনালে ভবানীপুর ক্লাব-এর বিরুদ্ধে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে দুই দলই একশো ঊননব্বই রান করলেও কম উইকেট হারানোর সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন শিবির হারায় ছয় উইকেট, সেখানে ভবানীপুর হারায় আট উইকেট। সেই কারণেই ট্রফি ওঠে মোহনবাগানের হাতে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে মোহনবাগান। দলের ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন শাকির হাবিব গান্ধী। মাত্র তিপ্পান্ন বলে তিরানব্বই রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল একের পর এক বাউন্ডারি ও বড় শট। অন্যদিকে বিবেক সিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি আটত্রিশ বলে ছেচল্লিশ রান করেন। দু’জনের জুটিতে দ্রুত রান ওঠায় বড় স্কোরের ভিত গড়ে যায়। জে সি মুখার্জি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের পর আবেগাপ্লুত মোহনবাগান কর্তা সঞ্জীব গোয়েল বলেন, “এই সাফল্য শুধুমাত্র একটা ট্রফি জয় নয়, পুরো দলের ঐক্য এবং লড়াইয়ের প্রতিফলন। ক্রিকেটাররা গোটা প্রতিযোগিতাজুড়ে যে মানসিকতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফাইনালে ম্যাচ টাই হওয়ার পরেও ছেলেরা আত্মবিশ্বাস হারায়নি। কম উইকেট হারানোর নিয়মে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি ঠিকই, কিন্তু এই জয়ের ভিত তৈরি হয়েছে ক্রিকেটারদের পরিশ্রম এবং আত্মনিবেদনের মাধ্যমে। সমর্থকদের সমর্থনও আমাদের বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে। আশা করি এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে দলকে অনুপ্রাণিত করবে।”
শেষ পর্যন্ত কুড়ি ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে একশো ঊননব্বই রান তোলে মোহনবাগান। ভবানীপুরের হয়ে টৌফিক উদ্দিন মণ্ডল চার ওভারে তেইশ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। গীত পুরিও দুটি সাফল্য পান। জয়ের জন্য একশো নব্বই রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ভবানীপুর। বিশেষ করে অখিলের ঝোড়ো ব্যাটিং মোহনবাগানকে চাপে ফেলে দেয়। মাত্র সাতাশ বলে পঞ্চান্ন রান করেন তিনি। অন্যদিকে যুবরাজ দীপক কেশওয়ানিও সাতাশ বলে বত্রিশ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি বজায় থাকায় ম্যাচ জমে ওঠে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে ম্যাচে ফেরে মোহনবাগান। রবি কুমার চার ওভারে একচল্লিশ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। প্রদীপ্ত প্রামাণিকও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে দুটি উইকেট নেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুললেও আট উইকেট হারিয়ে ফেলে ভবানীপুর। ফলে ম্যাচ টাই হয়। নাটকীয় সমাপ্তির পর নিয়ম অনুযায়ী কম উইকেট হারানোর কারণে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় মোহনবাগানকে। ইডেনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। ম্যাচের সেরার পুরস্কার জেতা সাকির হাবিব গান্ধী বলেন, “ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি। শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার এবং যতক্ষণ সম্ভব উইকেটে থেকে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যাওয়ার। সতীর্থদের সহযোগিতাও অসাধারণ ছিল। ব্যক্তিগতভাবে এই ইনিংস আমার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে, তবে সবচেয়ে বড় আনন্দ দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখা। এমন ঐতিহাসিক জয়ের অংশ হতে পারাটা সত্যিই গর্বের।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =