১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়াম একসময় সাক্ষী ছিল দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের। প্রায় চার দশক পর সেই একই মাঠে শুরু হল ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের যাত্রা। আর উদ্বোধনী ম্যাচেই নিজেদের সমর্থকদের আনন্দে ভাসাল স্বাগতিক মেক্সিকো।
গ্যালারিভর্তি দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। বলের দখল এবং আক্রমণের তীব্রতায় তারা প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার উপর স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করে। সেই দাপটের ফলও আসে খুব দ্রুত। ম্যাচের মাত্র নবম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস রক্ষণভাগে একটি পাস দিতে গিয়ে ভুল করেন। সুযোগ বুঝে বল কেড়ে নেন মেক্সিকোর মিডফিল্ডার এরিক লিরা। তিনি দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন জুলিয়ান কুইনোনেসের কাছে। বক্সের সামনে সুযোগ পেয়েই শট নেন মেক্সিকোর এই ফরোয়ার্ড। বল গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায়। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মেক্সিকো। একের পর এক আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। জুলিয়ানের দুরন্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে হয়তো বিরতির আগেই দুই গোলে এগিয়ে যেত স্বাগতিকরা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য সেদিন সেই মুহূর্তে তাদের পক্ষে ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে মাঠের উত্তেজনা এবং রেফারির সিদ্ধান্ত। ব্রাজিলের রেফারি উইলটন পেরেইরা একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচকে অন্য মাত্রা দেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি তিনজন ফুটবলারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
প্রথম লাল কার্ডটি আসে ঊনপঞ্চাশতম মিনিটে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিটহোলে প্রতিপক্ষকে বিপজ্জনক ট্যাকল করলে রেফারি তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় ম্যাচের শেষভাগে। বিরাশি মিনিটে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার তেম্বা জওয়ানে। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও পরে ভিডিও সহায়তায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্টেসও। বক্সের সামনে প্রতিপক্ষকে ফাউল করার শাস্তি হিসেবে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। এর পাশাপাশি আরও কয়েকজন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচজুড়ে উত্তেজনা, বিতর্ক এবং সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটল মেক্সিকোর মুখে। নিজেদের মাঠে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল তারা। ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে দর্শকদের উল্লাস, দ্রুত গোল, লাল কার্ডের নাটক এবং উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সূচনা হল জমজমাট আবহেই। ফুটবলের মহাযজ্ঞের প্রথম দিনেই বিশ্ববাসী পেয়ে গেল রোমাঞ্চের পূর্ণ স্বাদ।

