মমতা ব্যানার্জির সরকারকে কেন্দ্রের বাজেটের বদলে রাজ্যের বাজেটের দিকে একটু নজর দিতে হবে

সত্যেন্দ্র প্রতাপ সিং

ভারত সরকার তথা কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ০১ ফেব্রুয়ারিতে নবমবার কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ( বি.ই) ₹৫৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার মূল ব্যয় এবং ₹৩৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা কোনো ঋণপ্রাপ্তি ছাড়াই পেশ করলেন।

কেন্দ্রের এই বাজেটকে (২০২৬-২৭) তৃণমূল কংগ্রেস দিশাহীন, জনবিরোধী ও বাংলা বিরোধীর আখ্যা দিয়েছে।
বিরোধী প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি জানান এই বাজেট ‘হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট ‘তথা দিশাহীন এবং গরিব, নারীশক্তি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিরোধী।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি বাজেটকে কটাক্ষ করে বলেন “বাজেটে বাংলার নাম টুকুও উল্লেখিত হয়নি ও আর্থিক বন্টন প্রদান করা হয়নি’’। অভিষেক ব্যানার্জির কথা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ঘোষিত রেল করিডোরের পরিকল্পনা মমতা ব্যানার্জির মস্তিষ্কপ্রসূত।

সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা এই বাজেটকে ” ফেকু ও জর্জরিত ” বলে কটাক্ষ করেছেন।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গকে অবহেলা করা হয়েছে, বঙ্গের কোনো রোজগারের উল্লেখ নেই, কেন্দ্র শুধু পদ্ম শাসিত রাজ্যগুলিতে আর্থিক সাহায্য করছে যা এক স্বৈরতন্ত্র সরকারের পরিচয় দেয় ।

চার দিন পর ০৫ ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ₹৪.০৬ লক্ষ কোটি টাকার রাজ্যের বাজেট পেশ করলেন।

রাজ্যের পেশ করা এই বাজেটকে বঙ্গবিজেপি ‘ তুষ্টিকরণের রাজনীতি ‘ ও ‘ ভোট ব্যাংকের বাজেট ‘ বলে কটাক্ষ করেছে।
বিজেপির নেতৃত্বগন যেমন অমিত মালব্য ও সুধাংশু ত্রিবেদী রাজ্য বাজেটে মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা ৫৭১৩ কোটি টাকার প্রতি নিন্দা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শিল্পের জন্য ১৪৮৩ কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গের জন্য ৯২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার দ্বারা সার্বিক উন্নয়নকে অবহেলিত করেছেন।

রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে বিজেপির বক্তব্য – ‘মমতা ব্যানার্জি মা-মাটি-মানুষকে বাদ দিয়ে শুধু মৌলবী, মোয়াজ্জিন ও মাদ্রাসাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিজেপির আইটি সেলের প্রমুখ অমিত মালব্য বলেছেন ” রাজ্য বাজেটে কোন শিল্প, রোজগার তৈরী ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোন স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই , শুধুমাত্র নির্বাচন জেতার ও ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করাটাই মূল প্রচেষ্টা “।

সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছেন “যেখানে মাদ্রাসার জন্য বিপুল রাশি বরাদ্দ করা হয়েছে সেখানে শিল্পোন্নতির জন্য মাত্র ২১৭ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য মাত্র ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করাটা চিন্তাজনক।”

প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছেন “লক্ষী ভান্ডারের টাকা বাড়ানো হয়েছে কিন্তু সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা (DA) পাচ্ছেন না”
অতএব, বিজেপির মূলবক্তব্য এই রাজ্য বাজেট সার্বিক উন্নয়ন বিরোধী ও রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অবনতির পথে নিয়ে যাবে, এধরনের অর্থনৈতিক ঘোষণা নির্বাচনের আগে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মাত্র।

কেন্দ্রীয় বাজেটে চিৎকার করা তৃণমূল কংগ্রেস যখন নিজের রাজ্য বাজেটের দিকে আলোকপাত করছে তখন ‘বলা-করা’ পার্থক্য স্পষ্ট। শিক্ষা ব্যবস্থা, হাসপাতাল ও শিল্পকে অবহেলিত করে মৌলবী, মোয়াজ্জিন ও মাদ্রাসাকে গুরুত্ব দিয়ে ৫৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মমতা ব্যানার্জি ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং তুলনামূলকভাবে সেই বছর থেকেই ১০৮৬% এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মাত্র ২১১ কোটি টাকা, বৃহৎ-স্বল্পবৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ( MSME ) মাত্র ১২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ইমাম ভাতা রূপে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হয় অন্যদিকে হিন্দু ব্রাহ্মণদের ইমামভাতার অর্ধেক টুকুও প্রাপ্য হয় না।

কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা করা তৃণমূলের রাজ্য বাজেট অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে ভারতের জিডিপি ১০.৫% ও পশ্চিমবঙ্গের ৫.৬%। অন্যদিকে ভারতবর্ষের প্রতি ব্যক্তির আয় ২৭.৫% ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ব্যক্তির আয় ১৬.৩%।

চিন্তাজনক পরিস্থিতি, একের পর এক কলকারখানায় তালা ঝুলছে এবং কারখানার জমি বড় প্রোমোটারদের হস্তান্তর করা হচ্ছে, এবং নতুন শিল্পের স্বপ্ন মরীচিকার রূপ ধারণ করেছে।

সিঙ্গুর থেকে টাটা যাওয়ার পর বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোও স্থানান্তরিত হয়েছে।

ভারতের উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণে বাংলা ৬.৭% থেকে নেমে ২.৯% পৌঁছেছে।

কোনো বিনিয়োগকারী এমন রাজ্যে বিনিয়োগ করবে না যে রাজ্যের রাজনীতি উন্নত আর্থিক পরিকাঠামো তৈরি করার বদলে ভোটব্যাংকের রাজনীতিতে প্রভাবিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + sixteen =