ভোটার তালিকা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, পাল্টা তোপ বিজেপির

কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার মিনাঁখার হাড়োয়া সার্কাস ময়দানে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নিতে বিজেপি পরিকল্পনা করে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে।

জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনী ভারসাম্যে প্রভাব ফেলা যায়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, বাংলায় ক্ষমতা দখলের নেশায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দিলেও তৃণমূল কংগ্রেসই পুনরায় জয়লাভ করবে এবং ক্ষমতায় ফিরবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর দল আদালতের দ্বারস্থ হবে। যে সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে “নির্মম সরকার” বলে তীব্র আক্রমণ শাণান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে বিজেপির প্রতি ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া এখন স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের যে পথ দেখিয়েছিল, আজ গোটা বাংলা সেই পথেই হাঁটছে। তাঁর মতে, নন্দীগ্রামের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবার ভবানীপুর-সহ রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও দেখা যাবে।

২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটগ্রহণ আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুটি দফায় সম্পন্ন হবে। এরপর ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা বা ভোটগণনা করা হবে। ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিপুল জনদেশের দাবির মধ্যে দিয়ে রাজ্যের নির্বাচনী লড়াই এখন তুঙ্গে। তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই এই মর্যাদার লড়াইয়ে নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করতে সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 14 =