হুগলি লোকসভায় আবারও বিজেপির প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়, উলুধ্বনি দিয়ে স্বাগত কর্মীদের

হুগলি: হাতে গোনা কয়েকটা দিন। নির্বাচনের সলতে পাকানোর কাজটা অনেক আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দলই। রাজনৈতিক দলগুলির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাও সামনে আসবে শীঘ্রই। সবার আগে ভোট প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ল বিজেপি। শনিবার সন্ধ্যায় সর্বভারতীয় বিজেপি নেতৃত্ব লোকসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। এবারেও হুগলি লোকসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী হলে লকেট চট্টোপাধ্যায়। নাম ঘোষণার পরেই হুগলিতে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে গেরুয়া আবির খেলা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিটে তিনি হুগলির দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি নেতা সুবীর নাগ, তুষার মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসমিট করেন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে হুগলি থেকে জিতেছিলেন লকেট। হুগলিতে তৃণমূল বিরোধী মুখ হিসাবে বিগত কয়েক বছরে একেবারে প্রথমসারিতে উঠেও এসেছেন। হুগলি থেকে এবারে পদ্ম শিবিরের তরফে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। শনিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটল।

হুগলি লোকসভা থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়।
এদিকে শেষ বিধানসভা ভোট থেকে পুরসভা, পঞ্চায়েত, সব নির্বাচনেই কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে বিজেপিকে। সেখানে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় বড় কোনও চমক থাকে কিনা সেদিকে নজর ছিল সকলেরই। এদিন প্রত্যাশা মতোই বিজেপির হেভিওয়েট নেত্রী তথা বিখ্যাত চলচিত্র অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় হুগলি লোকসভা থেকে প্রার্থী হলেন। এই বিষয়ে হুগলির বিজেপি নেতা ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ২০২১ সালের ভোটের পর থেকে ২০২৪ সালের পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে। বাংলার মানুষ তৃণমূলকে আর চাইছে না। হুগলি থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ায় তাকে আবারও স্বাগত জানাছি। মূলত, তিন চারটি ইস্যু নিয়ে বিজেপি লড়াই করবে এবং জিতবে। রাজ্যের আইন প্রশাসন ঠিক করা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করা। চুরি আটকানো, তৃণমূল যতদিন থাকবে ততদিনে চুরি হবে তাই তৃণমূলকে পাল্টাতে হবে। রাজনীতিটা মানুষের জন্য নিজেদের পকেট ভরানো নয় এই উপলব্ধি বোধ ছড়িয়ে দেওয়া।

এদিন প্রেসমিটে বিজেপির হুগলি লোকসভার প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, মানুষের আশীর্বাদে বিজেপি হুগলি লোকসভা থেকে জিতবে। চেনা মাঠে মানুষ বিজেপিকে আশীর্বাদ করবে। তৃণমূল আবারও পরাজিত হবে। এবার পশ্চিমবঙ্গের ৪২ টি আসনেই পদ্মফুল জিতছে। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠনের পরেই রাজ্যে তৃণমূল সরকার ভেঙে যাবে। তৃণমূল নিজেদের মধ্যে খেলা হবে, খেলা হবে করে শেষ হয়ে যাবে। সবমিলিয়ে প্রার্থী ঘোষণার পরেই বিজেপি কর্মীরা উলুধ্বনি দিয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে স্বাগত জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *