লিগ, ওয়ানডে, টি২০- তিন ফরম্যাটেই একসঙ্গে সাফল্য কুমোরটুলি ইনস্টিটিউটের, উচ্ছ্বসিত প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইতিহাস গড়ে প্রথম ডিভিশনের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে কুমোরটুলি

কলকাতা : চলতি ২০২৫-২৬ মরশুমে নজির গড়ল কুমোরটুলি ইনস্টিটিউট। কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটের প্রথম ডিভিশনের তিনটি ফরম্যাট—লিগ, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—সবকটিতেই সিএবি চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে জায়গা করে নিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে এই ১৪০ বছরের প্রাচীন ক্লাব।

শনিবার জোড়া জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় কুমোরটুলি। অম্বর রায় সাব-জুনিয়র কলকাতা ফার্স্ট ডিভিশন ওয়ানডে ম্যাচে মায়াঙ্ক ঝাঁর ১০১ রানের ইনিংস নজর কাড়ে। পাশাপাশি পবনের ৫৫ রান ও ১ উইকেট, সায়ন পালের অপরাজিত ৬৮ রান ও ২ উইকেট এবং আখতারের ৩ উইকেট দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একই দিনে সিএবি ফার্স্ট ডিভিশন ওয়ানডে-তে কাস্টমসকে ১৪ রানে হারায় তারা।

রবিবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বালিগঞ্জকে ৬৭ রানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে কুমোরটুলি।

ক্লাবের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং দলগত সংহতি। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাত্র কোচ দেবজ্যোতি চ্যাটার্জি, সুনন্দ চক্রবর্তী ও দেবর্ষি ব্যানার্জীর প্রচেষ্টায় দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। পাশাপাশি যুবরাজ যাদব, মায়াঙ্ক ঝাঁ, ক্যাপ্টেন পবন, আরশিমার সিং, সায়ন পাল, বিরাজ মাল্য-সহ একাধিক ক্রিকেটার মরশুম জুড়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। অভিজ্ঞ রঞ্জি খেলোয়াড় অনির্বাণ গুপ্ত, সোয়েব খান ও অনীশ দত্তরাও দলের ভিত শক্ত করেছেন।

ক্লাবকে ধারাবাহিক ভাবে উন্নতির নেপথ্যে রয়েছে ক্রিকেট ইনচার্জ তথা সিএবি আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ময়দানে বালুদা নামেই পরিচিত প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। একসময় খেলোয়াড় হিসেবে এই ক্লাবে শুরু করেন তিনি। শরদিন্দু পালের হাত ধরে ক্লাবে যোগ দেন। পরে কোচ এবং বর্তমানে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পরবর্তীতে ক্লাবের কর্ণধার সর্দার আমজাদ আলী সিএবিতে পাঠান প্রসেনজিৎকে।

এরপর থেকে তিনি ক্লাবের সুখ দুঃখের সঙ্গী। ধারাবাহিক পথচলার ফল হিসেবেই আজকের এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করা করছেন তিনি। প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলের কোচিং স্টাফ এবং ক্রিকেটারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কুমোরটুলিকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে মরশুমকে আরও স্মরণীয় করে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =