টানা ছয় ম্যাচ জয়ের মুখ না দেখার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এ বারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অভিযান প্রায় শেষ। প্লে-অফের আশা তখন কেবল অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ক্রিকেটে শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়—সেই বিশ্বাস নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল অজিঙ্ক রাহানের দল। ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে সেই লড়াই আরও জিইয়ে রাখল নাইটরা।
বুধবারের ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন রাহানে। বৃষ্টিভেজা ইডেনের পিচে সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দিলেন কেকেআরের বোলাররা। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে বল করতে থাকেন পেসাররা। মুম্বইয়ের তারকা ব্যাটিং লাইনআপকে এক মুহূর্তও স্বস্তিতে থাকতে দেননি তাঁরা।
পাওয়ারপ্লের মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বই। রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবদের দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কলকাতা। প্রথম ছ’ওভারে খুব বেশি রান তুলতে পারেনি মুম্বই, তার উপর চারটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। পরে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন করবিন বশ। মাত্র ১৮ বলে ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসের সৌজন্যেই মুম্বই কোনওমতে ১৪৭ রানে পৌঁছয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে থামে তাদের ইনিংস।
১৪৮ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও কেকেআরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দ্রুত রান তুলে নেট রানরেট বাড়ানো। সেই লক্ষ্য নিয়েই শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ফিন অ্যালেন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। অধিনায়ক রাহানেও ব্যর্থ হন দ্রুত রান তুলতে। ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট থেকেও বড় ইনিংস আসেনি।
কিন্তু কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মণীশ পাণ্ডে। ৪১ বছর বয়সেও যে তিনি এখনও দলের ভরসা হতে পারেন, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। হাতে চোট থাকার কারণে অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ব্যাট করতে না পারায় সুযোগ পান মণীশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রভম্যান পাওয়েলের গুরুত্বপূর্ণ জুটি কেকেআরকে জয়ের রাস্তা দেখায়। দু’জনে মিলে ম্যাচের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেন।
শেষ দিকে খুব বেশি ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্য পূরণ করে কলকাতা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে উঠে এসেছে নাইটরা। এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য—শেষ ম্যাচে জয় তুলে প্লে-অফের দরজা খোলা রাখা।
আগামী রবিবার ইডেনেই দিল্লির বিরুদ্ধে নামবে কেকেআর। সেই ম্যাচ কার্যত মরণবাঁচন লড়াই। অন্য দলের ফলের দিকেও নজর রাখতে হবে নাইটদের। তবে দীর্ঘ সময় খারাপ পারফরম্যান্সের পরও যেভাবে দলটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে সমর্থকদের মনে আবার আশা জেগেছে। শেষ পর্যন্ত সত্যিই কি সুখের সমাপ্তি অপেক্ষা করছে? উত্তর মিলবে শেষ ম্যাচেই।

