দিল্লিকে আট উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে জোরালো কেকেআর

আইপিএলের শুরুতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দেখে মনে হয়েছিল, এ বার হয়তো তাদের ভাগ্যে বিশেষ কিছু নেই। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে দলের ব্যাটিং-বোলিং কোনও বিভাগই ধারাবাহিক ছিল না। এমনও প্রশ্ন উঠেছিল, এই দল আদৌ নিয়মিত ম্যাচ জিততে পারবে কি না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে ছবিটা। এখন টানা চার ম্যাচ জিতে অজিঙ্ক রাহানের দল প্রবল ভাবে প্লে-অফের লড়াইয়ে ফিরে এসেছে। শুক্রবার ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসকে আট উইকেটে হারিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী দেখাল কেকেআরকে।
ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনায় ছিল পিচ। দেখে মনে হচ্ছিল একেবারে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। আলো পড়ে চকচক করছিল পিচের ঘাসহীন অংশ। এই মাঠেই এর আগে দিল্লি ২৬৪ রান তুলেছিল পঞ্জাবের বিরুদ্ধে। ফলে টসে জিতে বেশির ভাগ অধিনায়ক যেখানে আগে ব্যাট করতে চাইতেন, সেখানে রাহানে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে দিল্লিকে আগে ব্যাট করতে পাঠান। প্রথমে অনেকেই অবাক হলেও ম্যাচ শেষে বোঝা গেল, সিদ্ধান্তটা কতটা কার্যকর ছিল। রান তাড়া করতে নেমে কেকেআরের ব্যাটারদের কোনও সমস্যাই হয়নি। বরং দিল্লির ব্যাটাররাই শুরু থেকে চাপের মধ্যে ছিলেন।
দিল্লির ইনিংসের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি হারিয়ে ফেলা। একসময় ৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। সেই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক অক্ষর পটেল এবং আশুতোষ শর্মা ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের জুটি দলের কাজে লাগেনি। দু’জনে ৩৯ রান যোগ করতে খেলেছেন ৪৬ বল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত ধীর গতির ব্যাটিং কার্যত দলের হাত থেকে ম্যাচ বের করে দেয়। একটা সময়ে টানা ৩৮ বলে কোনও বাউন্ডারিই আসেনি দিল্লির ব্যাট থেকে। অক্ষর ২২ বলে মাত্র ১১ রান করেন। শেষ দিকে আশুতোষ কিছু বড় শট খেললেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
দিল্লির ব্যাটিংকে চাপে ফেলার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল কেকেআরের স্পিনারদের। রাহানে শুরু থেকেই স্পিন আক্রমণ ব্যবহার করেন। অনুকূল রায় প্রথম বলেই চার খেলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান। পিচ থেকে বিশেষ সাহায্য না পেলেও অনুকূল, সুনীল নারাইন এবং বরুণ চক্রবর্তী মিলে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বল করেন। তিন স্পিনার মিলে ১২ ওভারে দেন মাত্র ৭৬ রান। টি-টোয়েন্টির হিসাবে যা অসাধারণ। রান আটকে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত চাপ তৈরি করায় দিল্লির ব্যাটাররা বড় শট খেলতে পারেননি।
এই জয় শুধু দু’পয়েন্ট এনে দেয়নি, কেকেআরের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। যে দলকে কয়েক সপ্তাহ আগেও ছন্নছাড়া লাগছিল, তারাই এখন প্লে-অফের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছে। টানা চার ম্যাচ জিতে রাহানের নেতৃত্বে নতুন ছন্দ খুঁজে পেয়েছে কলকাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 2 =