র্যাঙ্কিংয়ে ৯৪ ধাপের ব্যবধান। একদিকে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারত, অন্যদিকে সদ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলে আসা ৪৪ নম্বরের পানামা। কাগজে-কলমে দু’দলের পার্থক্য ছিল যথেষ্ট। কিন্তু বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে শুক্রবার সেই ব্যবধানের ছাপ দেখা গেল না। বিশ্বকাপের দলের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করল ভারত। শেষ দিকে পাওয়া দু’টি সুযোগের কোনও একটি কাজে লাগাতে পারলে জয়ও আসতে পারত।
দুই দেশের সিনিয়র জাতীয় দলের প্রথম সাক্ষাৎেই ভারতের লড়াইয়ের ছবি ছিল ইতিবাচক। প্রথমার্ধেই রায়ান উইলিয়ামসের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। পুরো ম্যাচে বল দখলে পানামা সামান্য এগিয়ে থাকলেও ভারত নিয়মিত আক্রমণ তৈরি করেছে। পানামা ৫৩ শতাংশ বল দখলে রাখে, ভারত ৪৭ শতাংশ। মোট শটে পানামা ১২-৯ এগিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরিতে ব্যবধান ছিল সামান্য— পানামা ৯টি, ভারত ৮টি। অর্থাৎ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও ভারত আক্রমণে উঠতে পেরেছে।
তবে সমস্যাটা ছিল শেষ মুহূর্তের কার্যকারিতায়। লক্ষ্যে পানামার চারটি শটের বিপরীতে ভারতের মাত্র একটি। ১-১ অবস্থায় জয়সূচক গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থেকে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন সুযোগ বারবার আসে না। তাই এক পয়েন্টের পাশাপাশি আরও দু’পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপও থাকছে।
খালিদ জামিলের দলের সামনে অবশ্য এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। পানামার পর প্রতিপক্ষ ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। ফলে এই ম্যাচ একদিকে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও অন্যদিকে স্পষ্ট করে দিল, বড় দলের বিরুদ্ধে সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলি কাজে লাগানোর দক্ষতাও বাড়াতে হবে। পানামার দলে বিশ্বকাপ খেলা ১৪ জন সদস্য ছিলেন। সেই দলের বিরুদ্ধে ভারতের ১-১ ফল তাই লড়াইয়ের স্বীকৃতি, আবার উন্নতির জায়গারও স্পষ্ট বার্তা।

