পোস্টার-ফেস্টুনহীন কালিম্পং, ভোটপ্রচারেও নিশ্চুপ পাহাড়ের ‘সাইলেন্ট ভোটাররা’

কালিম্পং : ভোটপ্রচার চললেও পাহাড়ের গায়ে এবার দেখা মিলল না রঙিন পোস্টার কিংবা দেওয়াল লিখনের দাপট। তবে স্যামদুঙের রাস্তায় উন্নয়নের কাজ চলছে পুরোদমে। পাহাড়িপথের যোগাযোগ রক্ষাকারী এই ছোট্ট জনপদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা একমাত্র রাস্তাটির মেরামতির ছবি ধরা পড়ল পথিমধ্যে। বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলা থেকে ১০-১৫ জন কর্মী নিয়ে হাজির হয়েছেন ঠিকাদার। হাইওয়ে পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই রাস্তার কাজের বরাত মিলেছে এক সপ্তাহ আগে, যা চলবে আগামী এক মাস।

​গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব ভোটের আবহে এখানে যেন এক নিঃশব্দ বিপ্লবের সুর। উন্নয়নের প্রশ্নে পাহাড়ের বাসিন্দারা এককাট্টা। লেপচা, সুব্বা, ভুটিয়া, রাই, প্রধান, তামাং, থাপা, শর্মা, মগর— সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষই ভোটদানের প্রশ্নে অত্যন্ত নিশ্চুপ। পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টির দিকেও ভোটারদের ঝোঁক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যদিও জনসমক্ষে মুখ খুলতে নারাজ স্থানীয়রা।

​রবিবার ছুটির দিনে দেখা মিলল না সরকারি কোনো প্রতিনিধির। ক্যাশোন পঞ্চায়েত অফিস থেকে শুরু করে রেভিনিউ ইনস্পেক্টরের দপ্তর— সবই বন্ধ। হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারেও দেখা নেই রোগী কিংবা সরকারি কর্মচারীদের। তবে নিকটবর্তী হিমালয়ান ফেলোশিপ চার্চে বসেছে সাপ্তাহিক আসর। মায়ের হাত ধরে খুদেদের সেখানে যেতে দেখা গেল। চার্চের ভারপ্রাপ্ত প্রকাশ সুব্বা জানালেন, এখানকার ভোটাররা মূলত ‘সাইলেন্ট ভোটার’। দূর থেকে ভেসে আসা গিটারের সুরের মূর্ছনা যেন সেই নিস্তব্ধতাকেই সঙ্গী করে নিয়েছে। প্রতি রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পড়ুয়াদের নিয়ে এখানে সাপ্তাহিক আসর বসে।

​পাহাড়ের এই শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চোরা স্রোতের হদিশ মিলল পেডং বাজারে। সেখানে বিজেপির কিছু পতাকা চোখে পড়লেও, গোটা রাস্তার চতুর্দিকে প্রচারের আর কোনও চিহ্ন দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + five =