কলকাতা লিগ ও আইএফএ শিল্ড জিতে সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল গ্রিক কোচ দিলেমপেরিসের ছাত্ররা। কিন্তু আইএসএল শুরুতেই গুয়াহাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ল মোহনবাগান। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে গোলের জন্য লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারল না সবুজ-মেরুন। সংযুক্ত সময়ে জিতিন এমএসের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেল নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। মরশুমের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই ধাক্কা খেল দিলেমপেরিসের দল। গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে রক্ষণে সামান্য অসতর্কতার মাশুল দিতে হল মোহনবাগানকে।
সোমবার গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। চতুর্থ মিনিটে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের জেলকোভিচের ক্রস ধরে নেন গোলরক্ষক গুরমিত সিং। পরের মিনিটে কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি মোহনবাগান। সাত মিনিটে বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন ড্রজিক। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে যায় তাঁর প্রচেষ্টা।
আট মিনিটে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল সবুজ-মেরুন। ছাংতের নেওয়া কর্নার থেকে ভলিতে শট নেন লি আরউইন। বল সজোরে পোস্টে লাগে। তবে অফসাইডের কারণে সেই প্রচেষ্টা বাতিল হয়। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় মোহনবাগান। ১৬ মিনিটে আলাউদ্দিন আজারাইয়ের শট আটকে দেন আলবার্তো রদ্রিগেজ। এক মিনিট পর দূর থেকে শট নিয়ে গোলের চেষ্টা করেন মোহনবাগানের জেলকোভিচ। কিন্তু সহজেই বল ধরে নেন গুরমিত।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। ৩৬ মিনিটে ম্যাকার্টন লুই নিকসনের পাস পেয়ে গোল করেন আজারাই। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। ৪১ মিনিটেও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন তিনি। ৪৩ মিনিটে দূর থেকে রদ্রিগেজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৪৫ মিনিটে আরউইনের উদ্দেশে বাড়ানো বলও ঠিক সময়ে পৌঁছয়নি। বিরতিতে ফল ছিল ০-০।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের মুখ খুলতে পারছিল না কোনও দল। ৪৭ মিনিটে দূর থেকে মেহতাব সিংয়ের শট বাইরে চলে যায়। ৫১ মিনিটে এথিয়ানের দুটি প্রচেষ্টাই সহজে সামলে নেন বিশাল কাইথ। ৫৪ মিনিটে আরউইনের শট বাঁচান গুরমিত। তার পর সাহাল আবদুল সামাদের পাস পেয়ে আবার শট নেন আরউইন। কিন্তু বল বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
৬০ মিনিটে গোলের আরও একটি সুযোগ পায় মোহনবাগান। বাঁ দিক থেকে লিস্টন কোলাসোর পাস পেয়ে শট নেন পরিবর্ত হিসেবে নামা মিগুয়েল। কিন্তু গুরমিত দুরন্ত দক্ষতায় বল আটকে দেন। ৬২ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে কোলাসোর শট প্রথমে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে যায়। ফিরতি বলে তাঁর বাঁ পায়ের বাঁকানো শটও রুখে দেন হাইল্যান্ডারদের গোলরক্ষক। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা মিলছিল না।
অন্য দিকে, ৬৯ মিনিটে নিনকোভিচের পাস ধরে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন পার্থিব গগৈ। কাইথ সহজেই বল ধরে নেন। ৭২ মিনিটে আজারাইয়ের নিচু ক্রস থেকে জিতিন এমএসের গোলের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মেহতাব সিং বল ক্লিয়ার করেন। ৭৪ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে আবার জালে বল জড়ান আজারাই। কিন্তু দ্বিতীয়বারও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসোর পাস পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নেন সুহেল আহমেদ ভাট। কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই সুযোগ নষ্ট করার দু’মিনিটের মধ্যেই পাল্টা আঘাত হানে নর্থ-ইস্ট ।
সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন মোয়ানো। কাইথ সেই শট বাঁচালেও বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে জালে ঠেলে দেন জিতিন এমএস। তাঁর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নর্থ-ইস্ট। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ঘরের মাঠের দল।
কলকাতা লিগ ও আইএফএ শিল্ড জয়ের পর আইএসএলেও ভাল শুরুর স্বপ্ন দেখছিলেন মোহনবাগান সমর্থকরা। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার কারণে প্রথম ম্যাচেই হতাশ হতে হল তাঁদের।

