ভারতীয় ফুটবলের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে জিনিয়াস স্পোর্টসকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম বড় ডেটা ও প্রযুক্তি সংস্থা হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার আইএসএল ক্লাবগুলির সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকে সংস্থার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লিগে তাদের কাজের ধরন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন। কিন্তু ক্লাবগুলির মূল প্রশ্নের উত্তর সেদিন মেলেনি।
আইএসএল ক্লাবগুলির প্রধান আগ্রহ ছিল—এই নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা ঠিক কবে থেকে আর্থিক লাভ পাবে। ক্লাবগুলির প্রত্যাশা ছিল, সংস্থা পরিষ্কার করে জানাবে কখন থেকে লভ্যাংশ দেওয়া শুরু হবে এবং কীভাবে সেই অর্থ বণ্টন হবে। কিন্তু বৈঠকে জিনিয়াস স্পোর্টস সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস দিতে পারেনি। ফলে মিটিং শেষে বেশ কিছু ক্লাব অসন্তোষ প্রকাশ করে। ক্লাব কর্তাদের বক্তব্য, একটি সংস্থা আন্তর্জাতিক স্তরে কত বড় বা কত সফল, তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল ভারতীয় ক্লাবগুলির বাস্তব লাভ। তারা জানতে চেয়েছিল, আইএসএলে অংশগ্রহণ করলে তাদের আয় কীভাবে বাড়বে এবং বিনিয়োগের টাকা ফেরত আসবে কি না। কিন্তু সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর না মেলায় সংশয় থেকেই গেল। বৈঠকে বেশিরভাগ ক্লাব উপস্থিত থাকলেও মোহনবাগান এবং ইন্টার কাশীর কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না। এই অনুপস্থিতি নিয়ে ফুটবল মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মোহনবাগানের মতো বড় ক্লাব না থাকা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। কেউ কেউ মনে করছেন, হয়তো আগেই জানা গিয়েছিল যে এই বৈঠক থেকে ক্লাবগুলির জন্য বিশেষ কোনও ইতিবাচক ঘোষণা আসছে না।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন বিনিয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধি সন্দীপ আগরওয়ালও। অর্থাৎ কিছু ক্লাব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বুঝতে আগ্রহ দেখালেও এখনও পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। চুক্তির প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, মোট লভ্যাংশের ৬০ শতাংশ ক্লাবগুলিকে দেওয়া হবে। বাণিজ্যিক অংশীদার পাবে ৩০ শতাংশ এবং ফেডারেশন পাবে ১০ শতাংশ। এছাড়া প্রতি বছর বিনিয়োগের ২০ শতাংশ ফেডারেশনকে দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে। কাগজে-কলমে এই হিসাব আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবে প্রথম বছর কোনও লাভের টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, জিনিয়াস স্পোর্টসের আগমন ভারতীয় ফুটবলের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনার সঙ্গে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, সময়সীমা এবং নিশ্চিত আর্থিক পরিকল্পনা। ক্লাবগুলি এখন শুধু বড় প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফল দেখতে চাইছে। সেই পরীক্ষাতেই আগামী দিনে জিনিয়াস স্পোর্টসকে উত্তীর্ণ হতে হবে।

