কল সেন্টারের আড়ালে আন্তর্জাতিক প্রতারণাচক্র, মূল পাণ্ডা পুলিশি জালে

কলকাতা : কল সেন্টারের আড়ালে আন্তর্জাতিক আর্থিক জালিয়াতির চক্র চালানোর অভিযোগে মূল পাণ্ডাকে গ্রেফতার করল মাটিগাড়া থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম সৈকত সিনহা রায়। মাটিগাড়া থানার একটি বিশেষ টিম উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার সকালে তাকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই বিশাল প্রতারণাচক্রের মূল পরিচালক ছিল এই সৈকতই। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিলিগুড়ি মহানগর পুলিশ ওয়েবেল আইটি পার্কের ১ ও ২ নম্বর পর্যায় এবং লিচুবাগানের ৩ নম্বর পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে একটি ভুয়া কল সেন্টারের সন্ধান পায়। সেই অভিযানে দুটি দফায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং দুটি কার্যালয় সিল করে দেওয়া হয়।

ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন লিচুবাগান আইটি পার্কের ওই কল সেন্টারে কাজ করত। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তারা পুলিশকে জানায়, নিজেকে সংস্থার নির্দেশক বলে দাবি করা সৈকত সিনহা রায় কলকাতা থেকে বসেই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করত। অভিযোগ, কল সেন্টারের আড়ালে মূলত বিদেশি নাগরিকদের নিশানা করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা চালানো হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সোদপুরে বসেই জালিয়াতির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নির্দেশাবলী পাঠাত সৈকত। সে সময়ে সময়ে শিলিগুড়িতেও আসত এবং লিচুবাগান আইটি পার্কের ‘জি-১৪’ নম্বর ঘরে কর্মচারীদের বিদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে, তার বিশেষ প্রশিক্ষণ দিত। সেই নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার ছক চালানো হতো।

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সৈকত নির্দিষ্ট সময় পরপর কল সেন্টারের অফিস এবং নিজের থাকার ভাড়া বাড়ি বদলে ফেলত। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রেফতার হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজন জামিন পেলেও দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদেই সৈকতের আস্তানা ও চক্রের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ।

কল সেন্টার সিল করা এবং কর্মচারীদের গ্রেফতার করা হলেও মূল পাণ্ডা অধরা থাকায় নানা প্রশ্ন উঠছিল। ফলে সোদপুর থেকে সৈকতের এই গ্রেফতারিকে পুলিশি তদন্তের বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃত সৈকতকে ১০ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + nine =