নয়াদিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারতের শাসনব্যবস্থা কেবল জনকল্যাণমূলক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নাগরিকদের ক্ষমতায়ন করে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ভাগীদার করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে। তিনি পরিচ্ছন্নতা, রান্নার গ্যাস সংযোগ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সহজ ঋণ সুবিধার মতো প্রকল্পগুলিকে একেবারে শেষ ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো এবং মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (পিএমও) বুধবার সমাজ মাধ্যম ‘এক্স’-এ কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার একটি নিবন্ধ ভাগ করে নিয়েছে। পিএমও জানিয়েছে যে, শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রকল্পগুলি পৌঁছানো এবং জনগণের অংশগ্রহণ শাসনব্যবস্থায় প্রকৃত পরিবর্তন আনছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
উল্লেখ্য, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে ‘মুভিং গভর্নেন্স ফ্রম ওয়েলফেয়ার টু এমপাওয়ারমেন্ট’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এতে তিনি বলেছেন যে, মোদী সরকারের শাসন ব্যবস্থায় মর্যাদা, সুযোগ এবং জনগণের অংশগ্রহণই মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিবন্ধে দরিদ্রতমদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার বিষয়ে মহাত্মা গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অন্ত্যোদয় দর্শনের উল্লেখ করা হয়েছে। সিন্ধিয়া নিবন্ধে বলেছেন, প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি) এবং জনধন-মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকা সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় দেশের অর্থনীতি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। দেশে ২.২৩ লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ ২৩ লক্ষের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। সিন্ধিয়া তাঁর নিবন্ধে উজ্জ্বল যোজনার অধীনে ১০.৫ কোটিরও বেশি রান্নার গ্যাস সংযোগ, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে প্রায় ১২ কোটি পারিবারিক শৌচাগার নির্মাণ এবং আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অধীনে ১২ কোটি মানুষের চিকিৎসার উল্লেখ করেছেন। মুদ্রা যোজনার অধীনে ৫৯ কোটিরও বেশি গ্যারান্টি-মুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়েছে, যেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ৩ কোটিরও বেশি গ্রামীণ মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়ে উঠেছেন। সিন্ধিয়া এই পদক্ষেপগুলিকে নাগরিকদের স্বাবলম্বী করে তোলার এক প্রয়াস হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

