সুথারের ঘূর্ণিতে জয় ভারতের ! ১৬৫ রানে ঘরের মাঠে বড় হার শ্রীলঙ্কার 

গলে প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার যাবতীয় প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে ১৬৫ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল ভারত। ম্যাচের শেষ দিনে লাঞ্চের পর মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যেই স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। ভারতের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন তরুণ বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে এতটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই জয়ের ফলে দুই টেস্টের সিরিজে এগিয়ে গেল শুভমান গিলের দল। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়েও নিজেদের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল ভারত।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত বড় রান তুলেছিল। শুভমান গিলদের প্রথম ইনিংস থামে ৪৬২ রানে। জবাবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ভারতীয় স্পিনারদের সামনে খুব বেশি প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। ২৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে প্রথম ইনিংসে ভারত ১৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায়। তৃতীয় দিনের শেষে ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেদিন আর মাঠে নামতে পারেনি দুই দল।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয়। মাত্র ১৯৩ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন ঋষভ পন্থ। দেবদত্ত পাড়িক্কল করেন ৪৪ এবং কেএল রাহুলের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য দাঁড়ায় ৩৭২ রানের বিশাল লক্ষ্য।
চতুর্থ দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল চার উইকেটে ৮৪। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জেতা যে অত্যন্ত কঠিন, তা পরিষ্কার ছিল। ভারতের সামনে তখন মূল চ্যালেঞ্জ ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া এবং আবহাওয়ার বাধা এড়িয়ে ম্যাচ শেষ করা। শেষ দিনে অবশ্য বৃষ্টি ভারতকে আটকাতে পারেনি। কিন্তু শ্রীলঙ্কার হয়ে সোনাল দিনুশার লড়াই ম্যাচকে কিছুটা দীর্ঘ করে দেয়।
প্রথম ইনিংসে শতরান করা দিনুশা দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি’সিলভার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই জুটি হয়তো অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখাতে পারে। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজার বলে ধনঞ্জয়ের আউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধে বড় ধাক্কা লাগে। লাঞ্চের সময় তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৭৫।
এরপরই শুরু হয় মানব সুথারের ঘূর্ণির জাদু। লাঞ্চের পর শ্রীলঙ্কার বাকি চার উইকেট দ্রুত তুলে নেয় ভারত। তার মধ্যে শেষ তিনটি উইকেটই আসে সুথারের হাত ধরে। শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। একাই দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই তরুণ স্পিনার।
সুথারের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর ফ্লাইট ও স্পিনের বৈচিত্র্য। বাতাসে বলকে ভালোভাবে ভাসিয়ে ব্যাটারকে সামনে টেনে আনছিলেন তিনি। বল পিচে পড়ার পরও যথেষ্ট ঘুরছিল। ফলে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের পক্ষে তাঁকে সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। সোনাল দিনুশার মতো সেট ব্যাটারকেও শেষ পর্যন্ত নিজের ঘূর্ণিতে ফাঁদে ফেলেন সুথার। তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসের ছয় উইকেটের সঙ্গে প্রথম ইনিংসের চার উইকেট যোগ করে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট তাঁর ঝুলিতে।
ভারতের হয়ে সুথারের পাশাপাশি দুই উইকেট নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। একটি করে উইকেট পান মহম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাদেজা। তবে দুর্দান্ত জয়ের মাঝেও ভারতীয় শিবিরে কিছুটা চিন্তার জায়গা থাকছে। যশস্বী জয়সওয়াল এবং অধিনায়ক শুভমান গিলের ব্যাট থেকে প্রত্যাশিত রান আসেনি। সিরিজের বাকি ম্যাচে তাঁদের ফর্ম ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।  গলে এই জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। ব্যাটিংয়ে ওঠানামা থাকলেও বোলিং বিভাগ যে কতটা শক্তিশালী, তা আবারও প্রমাণিত হল। আর মানব সুথারের ১০ উইকেটের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে এই টেস্টের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজের প্রথম পরীক্ষায় সফল ভারত এখন দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + two =