পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়াডে ক্রিকেটে সোনা ভারতের

বিশ্বকাপ হোক, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়ান গেমস মঞ্চ বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলায়নি। আর বদলায়নি ফলাফলও। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামলেই যেন অন্যরকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে ভারত। জাপানের মাটিতে এশিয়ান গেমসের ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হল না। ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মার ঝড়ের পর বল হাতে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে ক্রিকেটে সোনা জিতে নিল শ্রেয়স আইয়ারের ভারত। এশিয়ান গেমসে এটি ভারতের ১৯তম সোনা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুটা অবশ্য খুব একটা ঝড়ো হয়নি। প্রথম ওভারে মাত্র চার রান আসে। কিন্তু দ্বিতীয় ওভার থেকেই ম্যাচের রং বদলাতে শুরু করে। বৈভব সূর্যবংশী পরপর দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেন, বড় রান করার লক্ষ্যেই নেমেছে ভারত। অন্য প্রান্তে অভিষেক শর্মাও শুরু করেন একই ছন্দে। পাকিস্তানের বোলারদের উপর চাপ তৈরি হচ্ছিল দ্রুত।
তবে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মধ্যেই ধাক্কা খায় ভারত। সাইম আয়ুবের বলে অপ্রয়োজনীয় রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান বৈভব। মাত্র ১৫ রান করেই তাঁকে ফিরতে হয়। প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় পাকিস্তানের এক ক্রিকেটারের উদযাপনও নজর কাড়ে। কিন্তু জবাবটা ব্যাটেই দেন ভারতের বাকি ব্যাটাররা।
অভিষেক শর্মা যেন একাই পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। মাত্র ২৮ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার এবং সাতটি ছক্কা। অভিষেকের আক্রমণে একটা সময় পাকিস্তানের বোলারদের কোনও উত্তরই ছিল না।
তবে অভিষেক ফিরে যাওয়ার পর ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। সঞ্জু স্যামসন বড় রান করতে পারেননি। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও ২৪ বলে ২১ রান করেন। ঈশান কিষানের ব্যাট থেকেও আসে মাত্র ২০ রান। ফলে একটা সময় মনে হচ্ছিল, ২০০ রানের গণ্ডি হয়তো ছোঁয়া কঠিন হবে ভারতের।
সেই জায়গা থেকেই শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন তিলক বর্মা ও শিবম দুবে। তিলক মাত্র ২২ বলে ৫১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। শিবমও ১৫ বলে ২৭ রান করে দলকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তোলে ভারত।
রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা অবশ্য খারাপ হয়নি। জসপ্রীত বুমরাহদের সামলে সাহিবজাদা ফারহানা এবং মাজ সাদাকাত শুরুতে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। পরে পাকিস্তানের ইনিংসের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন হাসান নওয়াজ।
ভারতের ফিল্ডিং অবশ্য কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নওয়াজ যখন মাত্র চার রানে, তখন তাঁর ক্যাচ ফস্কান বৈভব সূর্যবংশী। এরপর ৫৯ রানের মাথাতেও আরও একটি সুযোগ নষ্ট হয়। সেই সুযোগগুলির পূর্ণ ফায়দা তুললেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারেননি নওয়াজ।
অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দররা মাঝের ওভারে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বোলিং করেন। পাকিস্তানের রান তোলার গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। একদিকে প্রয়োজনীয় রান বাড়ছিল, অন্যদিকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত ৯৬ রানে আউট হন হাসান নওয়াজ। ছয় উইকেট হারিয়ে ১৯২ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ১৯ রানে জয় পেয়ে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে সোনা নিশ্চিত করে ভারত। ব্যাট হাতে অভিষেক ও তিলকের দাপট, আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একটি স্মরণীয় জয় পেল ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + twenty =