৩৯ পদকেই সাফল্য দেখছে ভারত, কঠিন পরিস্থিতিতে চতুর্থ স্থানে শেষ অভিযান

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারত ৩৯টি পদক নিয়ে অভিযান শেষ করেছে। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ-সহ পদক তালিকায় ভারতের স্থান চতুর্থ। সংখ্যার বিচারে এটি ২৪ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে কম পদক জয় হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ছিল অনেক কঠিন।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার ভারতের পদক সংখ্যা ৫০-এর নিচে নেমেছে। কিন্তু গ্লাসগোতে মাত্র ১০টি খেলায় প্রতিযোগিতা হওয়ায় ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক বেশি। বার্মিংহাম ২০২২-এ ১৯টি খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার অর্ধেকের কাছাকাছি ইভেন্ট ছিল না। শুটিং, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস এবং হকির মতো ভারতের পদক নিশ্চিত করার বিভাগগুলো এবার বাদ পড়ে। এই পাঁচ খেলায় ভারতের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বার্মিংহাম গেমসে এই বিভাগগুলো থেকেই এসেছিল ৩০টি পদক এবং ১৩টি সোনা।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দল নতুন বিভাগে নিজেদের প্রমাণ করে। ১০টি খেলায় অংশ নিয়ে প্রতি খেলায় গড়ে ৩.৯০টি পদক জয় করে ভারত দেখিয়ে দিয়েছে তাদের সাফল্যের পরিধি বাড়ছে। বক্সিং ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্যের জায়গা। ১৪ সদস্যের বক্সিং দল ১০টি পদক জেতে। এর মধ্যে ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন লাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘাংঘাস এবং অরুন্ধতী চৌধুরী মহিলাদের বিভাগে সোনা জেতেন। পুরুষদের বিভাগে সচিন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাঙ্গালও শীর্ষে শেষ করেন।
জুডোতে হর্ষ সিং এবং অস্মিতা দে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেন। যামিনী মৌর্য ও উন্নতি শর্মাও পদক এনে দেন। অ্যাথলেটিক্সে নীরজ চোপড়া জ্যাভলিনে রুপো জেতেন। গুলভীর সিং ১০ হাজার মিটার ও ৫ হাজার মিটারে পদক জিতে নতুন নজির তৈরি করেন। তেজস্বিন শঙ্কর ডেকাথলনে ভারতের প্রথম পদক পান।
প্যারা অ্যাথলিটরা ৭টি পদক জিতে নিজেদের শক্তি দেখান। শর্মিলা ধনকর, দিলীপ মহাদু গাভিত এবং সোমন রানা সোনা জেতেন। ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ সোনা জিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেন।
গ্লাসগো গেমসের ৩৯টি পদক তাই শুধু সংখ্যার হিসেব নয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নতুন খেলায় সাফল্য পাওয়ার মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − two =