ভারত: ১৭০/৬ (স্মৃতি ৬৮, হরমনপ্রীত ৩৬, ফতিমা ৩৩/২, সাদিয়া ৪১/২)
পাকিস্তান: ১০৬/১০, ১৭ ওভারে (মুনিবা ৪১, আলিয়া ১৬, দীপ্তি ১০/৫, শ্রী চরণী ২১/৩)
ভারত জয়ী ৬৪ রানে।
হিসেবটা বোধহয় এবার গুলিয়ে যাবে। ক্রিকেট বিশ্বকাপের মঞ্চে পুরুষ ও মহিলা দল মিলে পাকিস্তানকে ঠিক কতবার হারাল ভারত! ক্রিকেট মাঠে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভারতের। পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করল ভারত। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে সহজে হারিয়ে দিল স্মৃতি মান্ধানারা। ভারতের দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে গেল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে মধুর সূচনা বিশ্বকাপের।
শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ব্যাট হাতে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান স্কোরবোর্ডে তুলে নেন সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও উইকেটকিপার রিচা ঘোষ। বল হাতে বাকি কাজটা করে দেন দীপ্তি শর্মা ও শ্রী চরণী। পাকিস্তানকে বোলিংয়ে গুড়িয়ে দিলেন ভারতীয় বোলাররা। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসের শুরু শেফালি বর্মা। তবে তিনি আউট হলেন টি-২০ র্যাঙ্কিংয়ে দু’নম্বরে থাকা সাদিয়া ইকবালের বলে জেমিমাহ রদ্রিগেজও (১) বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌর পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেন। বাউন্ডারি না আসলেও স্কোরবোর্ড সচল রাখেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার। একবার ক্যাচের সুযোগ দিলেও বেঁচে যান স্মৃতি। ক্রিজে জমে যাওয়ার পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন স্মৃতি। সাদিয়া ইকবালের এক ওভারে স্মৃতি ও হরমন দু’জন মিলে ১৯ রান তোলেন। ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্মৃতি। এরপরই পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান অধিনায়ক ফাতিমা সানা। রামিন শামিমের বলে লং-অনে স্মৃতির দুরন্ত ক্যাচ ধরেন তিনি। ৪৪ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন স্মৃতি। অধিনায়কের সঙ্গে ৯১ রানের জুটি গড়েন। ভারতী ফুলমালিকে চার নম্বরে নামানোর কৌশলও সফল হয়নি। মাত্র ১ রান করে স্টাম্পড হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩৬ রানে থাকা হরমনপ্রীতকেও ফেরান ফাতিমা। তবে শেষ দিকে মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন রিচা। ১৯তম ওভারে ওঠে ২৩ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে ভারত। রান তাড়া করতে নেমে দুরন্ত শুরু করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার মুনিবা আলি ও গুল ফিরোজা। তবে সেই জুটি বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি, কারণ দীপ্তি শর্মা। ১২ রান করে ফিরোজা আউট হতেই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। একে একে আউট আয়েশা জাফর (১২), সায়রা জাবিন (২), নাটালিয়া পারভেজ (৭) এবং ফতিমা সানা (০)। একাধারে ক্রিজে টিকে মুনিবা লড়াই চালিয়ে গেলেও তিনি রান আউট হওয়ায় পাকিস্তানের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা দীপ্তি শর্মা। শ্রী চরণি তিনটি উইকেট নেন এবং আরও একটি উইকেট নেন শেফালি ভর্মা।

