বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত, তবুও আইসিসির সেরার তালিকায় নেই ভারতের একটিও নাম !

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় দল। এই কৃতিত্ব আগে কোনও দেশ অর্জন করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, আয়োজক দেশ হিসেবেও ট্রফি জিতে নতুন নজির স্থাপন করেছে টিম ইন্ডিয়া। স্বাভাবিকভাবেই এই সাফল্যের পর দলের একাধিক ক্রিকেটারকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় ওঠে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা-র মাসসেরা ক্রিকেটারের তালিকায় জায়গা পেলেন না ভারতের কোনও ক্রিকেটারই।
ফেব্রুয়ারি মাসের সেরা ক্রিকেটারদের জন্য যে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে জায়গা পেয়েছেন তিনজন—পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস এবং আমেরিকার শ্যাডলে ফান শকউইক। অথচ এই সময়েই বিশ্বকাপ মঞ্চে দাপট দেখিয়েছেন ভারতের একাধিক তারকা ক্রিকেটার। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসন দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে রান করে তিনি সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিতেছেন। টানা তিন ম্যাচে অর্ধশতরান এবং একাধিক বড় ইনিংস তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে।
শুধু স্যামসন নন, ঈশান কিষান, জসপ্রীত বুমরা এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া-র মতো ক্রিকেটাররাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন দলের জয়ে। ব্যাটিং-বোলিং—দুই বিভাগেই ভারতীয়রা ছিল ধারাবাহিক। তবুও আইসিসির তালিকায় তাঁদের অনুপস্থিতি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের।
তবে বিষয়টির একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। আইসিসির এই পুরস্কার মূলত নির্দিষ্ট মাসের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারি মাসে যারা সবচেয়ে ভালো খেলেছেন, তাঁদেরই বিবেচনা করা হয়েছে। সেই দিক থেকে দেখলে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। তিনি টুর্নামেন্টে সর্বাধিক রান সংগ্রহ করেন এবং গড় ও স্ট্রাইক রেট—দুই ক্ষেত্রেই নজরকাড়া ছিলেন। যদিও তাঁর দল সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি, তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি এগিয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস অলরাউন্ড দক্ষতায় নজর কাড়েন। ব্যাট হাতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছেন। একাধিক ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেয়ে তিনি নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। একইভাবে, আমেরিকার পেসার শ্যাডলে ফান শকউইক শুরু থেকেই ধারাবাহিক বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছেন। বড় দলগুলির বিরুদ্ধেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য।
ভারতের ক্রিকেটারদের তালিকায় না থাকার প্রধান কারণ হল, বিশ্বকাপের শেষ পর্বের ম্যাচগুলি মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ফাইনাল-সহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতীয়দের সেরা পারফরম্যান্স ফেব্রুয়ারির হিসাবের মধ্যে পড়েনি। এই কারণে আইসিসির নির্বাচনে তাঁদের নাম না থাকা কিছুটা ব্যাখ্যাযোগ্য হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য সত্ত্বেও মাসভিত্তিক পুরস্কারের নির্দিষ্ট নিয়মের কারণেই এই অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবুও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা, আর সেই দিক থেকে ভারতীয় দলই যে সেরা—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 3 =