সিরিজ জয়ের পর কি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হল ভারতের? নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম তিনটি ম্যাচে দাপুটে জয়। দু’ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত। ফলে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে লক্ষ্য ছিল আরও একটি জয় তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করা। কিন্তু অকল্যান্ডে ঠিক উলটপুরাণ। ব্যাট হাতে রীতিমতো তছনছ হয়ে গেল ভারতীয় শিবির। নিউজিল্যান্ডের ২৫৯ রানের জবাবে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেল গৌতম গম্ভীরের দল। ৮৭ রানের এই হার শুধু জয়ের ধারাই থামাল না, দল নির্বাচন নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল।
এদিন টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স আইয়ার। সেই সুযোগে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হয় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। বিশাল রান তুলে ভারতকে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় তারা। কিন্তু সেই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়। প্রথম একাদশে দু’টি পরিবর্তন করেছিল ভারত। চোট কাটিয়ে ফিরেছিলেন ঈশান কিষাণ। আর তাতেই জায়গা হারাতে হয় আগের ম্যাচের নায়ক বৈভব সূর্যবংশীকে।
সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আগের ম্যাচে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করে নিউজিল্যান্ডের বোলিংকে তছনছ করে দিয়েছিলেন ১৫ বছরের বৈভব। অথচ তাঁকে বসিয়ে ফিরিয়ে আনা হল ঈশানকে। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে শূন্য রানেই আউট হলেন ঈশান। অন্য ওপেনার সঞ্জু স্যামসনও ২ বলে মাত্র ৪ রান করে ফিরলেন। অর্থাৎ ভারতের দুই ওপেনারের সংগ্রহ মাত্র ৪ রান!
এরপর একাই লড়াইয়ের চেষ্টা করেন অভিষেক শর্মা। আগের ম্যাচে শতরান করা বাঁহাতি ব্যাটার এদিনও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। মাত্র ১৫ বলে ২৭ রান করে দলের রান দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাথিউ ফিশারের বলে তাঁর বিদায়ের পর ছবিটা বদলে যায়। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও ১১ বলে ২২ রান করে আউট হন।
মাঝের সারিতে অক্ষর প্যাটেল ৭, নীতীশ কুমার রেড্ডি ২১, নমন ধীর ২৮ রান করেন। কিন্তু তিলক বর্মার ৩৫ বলে ৩৫ রানের মন্থর ইনিংসও দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই শেষ হয় ভারতের লড়াই।
এই হারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, বড় রান তাড়া করতে গেলে শুধু নামী ক্রিকেটার নয়, প্রয়োজন সাম্প্রতিক ফর্মের উপর আস্থা। বৈভবকে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে। সিরিজ ভারতের দখলে থাকলেও শেষ ম্যাচগুলিতে এই ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইবেন না সমর্থকরা।

