ভোপাল : অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু মামলায় মৃতার শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং এবং স্বামী সমর্থ সিংকে পাঁচ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল বিশেষ আদালত। শুক্রবার বিচারক শোভনা ভালাভের আদালতে দু’জনকে হাজির করা হলে সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানির সময় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা জানান, মামলার বিভিন্ন সূত্র জোড়া লাগাতে এবং গভীর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকেই হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা পক্ষের তরফে এই আবেদনে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। এরপরই আদালত পাঁচ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর আগে সমর্থ সিং সিবিআই হেফাজতেই ছিল, তার মেয়াদ আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে।
আদালতে তোলার আগে সমর্থের জেপি হাসপাতালে এবং গিরিবালার ম্যানিট ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এদিন আদালতে দু’জনকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। মৃতার পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা এবং গিরিবালার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নিত্যা।
সিবিআই সূত্রে খবর, এই বহুচর্চিত মামলার তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ‘টানেল ভিউ ইনভেস্টিগেশন’ পদ্ধতিতে ত্বিশার জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টার ভার্চুয়াল পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সিসি ক্যামেরার টাইমস্ট্যাম্প, মোবাইল ডেটা, ওয়াই-ফাই লগ, কল ডিটেল রেকর্ড ও টাওয়ার লোকেশন মিলিয়ে একটি ‘ডিজিটাল অবতার’ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে তিনতলা বাড়ির ভিতরে ত্বিশার শেষ অবস্থান, অভিযুক্তদের যাতায়াত এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় মিনিটে মিনিটে খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মৃত্যুর নেপথ্যে আর্থিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। সিবিআই জানতে পেরেছে, ত্বিশা বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার কিনেছিলেন। মৃতার আইনজীবী অঙ্কুর পাণ্ডে জানান, বিয়ের পর ভিয়েতনাম সফর থেকে ফেরার পরে সমর্থ ও গিরিবালা ওই শেয়ারের কথা জানতে পারেন এবং তা নিজেদের নামে হস্তান্তর করার জন্য ত্বিশার উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
এছাড়াও তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে ত্বিশা ফোনে মাকে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন, পণ দাবিকে কেন্দ্র করে সমর্থ ও গিরিবালা তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে নিয়েও মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হত বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, ১২ মে রাতে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার বাড়িতে ত্বিশার রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রথমে স্থানীয় পুলিশ করছিল। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২৫ মে তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই দ্রুত গতিতে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। রিমান্ড চলাকালীন সমর্থ ও গিরিবালাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বাড়ির কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী এবং ঘটনার রাতে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

